ক্রুড অয়েল সংকটে বন্ধ ইস্টার্ন রিফাইনারি, ১৬ ধরনের জ্বালানি উৎপাদনে বড় ঝুঁকি

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েলের তীব্র সংকটে চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (Eastern Refinery PLC Limited)-এর উৎপাদন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দেশের ১৬ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। জানা গেছে, রোববার বিকালেই শেষবারের মতো পরিশোধন কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল মজুত না থাকায় দুপুর থেকে তিনটি ইউনিটের মধ্যে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদনকারী দুটি ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় চলতি মাসের শুরু থেকেই পতেঙ্গায় অবস্থিত এই শোধনাগারটি কাঁচামালের সংকটে ভুগছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫ এপ্রিল থেকে বিকল্প উপায়ে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে শোধনাগারটির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম (Monjare Khorshed Alam) বলেন, ‘অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারি আজ (১৪ এপ্রিল) থেকে বন্ধ হয়েছে। পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন—সবই তৈরি হয় এই ইউনিটে, আর সেটাই এখন বন্ধ।’

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কেবল বিটুমিন উৎপাদন সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে। তবে দেশের প্রধান চাহিদা—অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল—এই পণ্যগুলোর ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation) বিদেশ থেকে প্রস্তুত জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বর্তমানে শোধনাগারটির তৃতীয় ইউনিটে সীমিত আকারে বিটুমিন এবং সামান্য পরিমাণ পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের মোট চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার টনসহ মোট ১৩ ধরনের জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে থাকে।

সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানো। তবে নতুন চালান পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ এপ্রিল সৌদি আরব থেকে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল জাহাজে তোলার কথা রয়েছে। সেটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ইস্টার্ন রিফাইনারির তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল মজুত রাখার সক্ষমতা প্রায় দেড় লাখ টন এবং পরিশোধিত জ্বালানি সংরক্ষণের ক্ষমতা রয়েছে আড়াই লাখ টন পর্যন্ত।