যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) জর্জিয়ার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, তরুণ মার্কিন ভোটারদের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে সরকারের নীতি পছন্দ করছে না। ঘটনাটি প্রকাশ করেছে আলজাজিরা (Al Jazeera)।
জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (University of Georgia)-এ টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় আচমকাই শ্রোতাদের একটি অংশ চিৎকার করে তার বক্তব্যে বিঘ্ন ঘটায়। অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় ১০ মিনিটের মাথায় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেন, “যিশু খ্রিস্ট গণহত্যাকে সমর্থন করেন না!”—এরপর আরও কয়েকজন যোগ করে অভিযোগ তোলেন, “আপনারা শিশু হত্যা করছেন এবং গাজায় শিশুদের ওপর বোমা ফেলছেন।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভ্যান্স শান্ত থাকার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “যিশু খ্রিস্ট গণহত্যাকে সমর্থন করেন না”—এ বক্তব্যে তিনি আংশিকভাবে প্রতিবাদকারীদের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করলেও একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের নীতির পক্ষে অবস্থান নেন।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে ভ্যান্সের বক্তব্যে কিছুটা নমনীয়তা লক্ষ্য করা যায়। ইরান যুদ্ধের সমালোচকদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি স্বীকার করি যে তরুণ ভোটাররা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের নীতি পছন্দ করে না—আমি সেটা বুঝতে পারি।”
তার এই আপোষমূলক সুর থেকে স্পষ্ট হয়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘কোনো নতুন যুদ্ধ নয়’—এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই অনেক সমর্থক ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, যা এখন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
তবে ভ্যান্স দাবি করেন, প্রশাসন পরিস্থিতি সমাধানে কাজ করছে এবং যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে উপস্থিতদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, শুধু সমালোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতি নিয়ে তার সমর্থকদের মধ্যেই অসন্তোষ বাড়ছে। এমনকি প্রভাবশালী রক্ষণশীল কণ্ঠ টাকার কার্লসন (Tucker Carlson)-ও প্রকাশ্যে এই নীতির সমালোচনা করছেন।


