প্রায় দেড় মাসের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা ডলারবাজারে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank)-এর মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর বিপিএম৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মার্চ শেষে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। তবে ওই মাসেই আকু বিল পরিশোধের কারণে রিজার্ভে বড় ধরনের পতন ঘটে।
কর্মকর্তারা জানান, আকু বিল পরিশোধের পর মোট রিজার্ভ নেমে আসে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ঘুরতে শুরু করে। বিশেষ করে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং মার্চের শুরুতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার ফলে রিজার্ভ আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে।
যদিও গত দেড় মাস কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা থেকে বিরত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও ডলার ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জানা গেছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার—এই দুই দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২ কোটি ডলার কিনেছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৬১ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ইরান (Iran) সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকগুলোর মধ্যে একধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। ডলারের দর বাড়ার আশঙ্কায় অনেক ব্যাংক আগেভাগেই তাদের বকেয়া পরিশোধ শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে বাজারে, ফলে ডলারের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। সেই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনা থেকে বিরত থাকে, যদিও বাজারে ডলারের সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিল।
বর্তমানে ব্যাংকগুলোর বকেয়া পরিশোধের চাপ কমে এসেছে এবং ডলারের দরও নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আবারও বাজার থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নতুন ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
