মোদি সরকারের বড় ধাক্কা—লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাসে প্রথম ব্যর্থতা

ভারতের লোকসভায় প্রথমবারের মতো সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকারের উদ্যোগ। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ‘সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ শুক্রবার ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে যায়।

ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে পড়ে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট। উপস্থিত ছিলেন মোট ৫২৮ জন সংসদ সদস্য। বিলটি পাস করতে প্রয়োজন ছিল ৩৫২ ভোট, ফলে ৫৪ ভোটের ঘাটতিতে তা ব্যর্থ হয়। গত ১২ বছরে মোদি সরকারের আনা কোনো সংবিধান সংশোধনী বিল এই প্রথমবারের মতো পাস হতে পারেনি।

সরকারের পরিকল্পনা ছিল নারীদের জন্য সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় আসন সংরক্ষণ, লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০-তে উন্নীত করা এবং নতুন করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন–সংক্রান্ত তিনটি প্রস্তাব একসঙ্গে আনা। তবে মূল সংশোধনী বিলটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় বাকি দুটি বিল আর সংসদে তোলা হয়নি।

বিরোধী দলগুলো বিশেষ করে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হলে কিছু অঞ্চলের রাজনৈতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) বলেন, নারীদের জন্য সংরক্ষণের বিষয়টি তারা সমর্থন করলেও সেটিকে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধী তারা।

ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি সব দলকে বিলটির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের সমর্থন না পাওয়ায় বিলটি পাস হয়নি। পরে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ‘নারীর নামে অসাংবিধানিক কৌশল’ নেওয়ার কারণেই এই বিলের ব্যর্থতা।