২০১৫ সালের ২২ জুলাই ভারতে এক নিম্ন আদালতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয় বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)-এর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতের রায়ে তিনি খালাস পান। তবে ভারত সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় তাকে সেখানেই অবস্থান করতে হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালতেও খালাস পান সালাহউদ্দিন। আদালত তার দেশে ফেরার পথ খুলে দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই বছরের ৮ মে তিনি আসাম রাজ্য সরকারের কাছে ভ্রমণ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন, যাতে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেলে নিজ দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে পারেন।
এরপর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরদিন ৬ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস পান এবং ১১ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন—দীর্ঘ সময় পর স্বজনদের কাছে ফেরার সুযোগ পান।
দেশে ফেরার পর ঘটনাপ্রবাহ নতুন দিকে মোড় নেয়। ২০২৫ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গু’\মের অভিযোগ দাখিল করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-সহ মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও যাদের নাম উঠে আসে তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান (Asaduzzaman Khan), সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ (Benazir Ahmed), সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও অনেকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সামনে আসে আরেক আলোচিত নাম—ইলিয়াস আলী (Ilias Ali)। বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিলেট-২ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে তাকে তুলে নেওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
গত বছরের ৯ জানুয়ারি বিএনপির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি বিস্তৃত অভিযোগ দাখিল করা হয়, যেখানে ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ ১৫৩ জনকে গু’\ম এবং ২ হাজার ২৭৬ জন নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারে হ’\ত্যার অভিযোগ আনা হয়।
এই অভিযোগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)-এর স্বাক্ষর ছিল। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ তোলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির গঠিত অনুসন্ধান কমিটি।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম (Md. Aminul Islam) জানিয়েছেন, গু’\ম সংক্রান্ত ঘটনাগুলোর তদন্ত জোরালোভাবে চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।


