তেলের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা: আয় থেমে, সংসারে টানাপোড়েনে রাইডশেয়ার চালকেরা

‘আজকে হয়তো আমার বাসায় বাজার হবে না। বাজার করব কী দিয়ে, সারা দিন তো তেলের জন্য বসে আছি। বাজারের কথা চিন্তা করলে বাবা-মায়ের ওষুধের টাকা হবে না। আর ওষুদের টাকার চিন্তা যদি করতে যাই, তাহলে বাজার হবে না।’—কথাগুলো বলছিলেন মোটরসাইকেল চালক তরিকুল ইসলাম (Tariqul Islam)।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর পরিবাগ (Paribagh) এলাকার মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে তার সঙ্গে কথা হয়। রাইডশেয়ার করে জীবিকা নির্বাহ করা এই চালক জানান, সকাল ৭টা থেকেই তিনি তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্তও তেল পাননি।

তরিকুলের মতো একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন আরও অনেক চালক। যারা প্রতিদিন রাইডশেয়ার করে আয় করেন, তাদের জন্য সময়ই মূল পুঁজি। অথচ সেই সময় এখন কাটছে লাইনে দাঁড়িয়ে। ফলে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঋণ নিচ্ছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো যানবাহনের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বেলা ১১টার দিকে মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন (Karim & Sons Filling Station)-এ দেখা যায়, ৪০৯টি মোটরসাইকেল এবং ২৭৯টি প্রাইভেট কার তেলের অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে বিকেল ৪টার দিকে পরিবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশন এলাকায় আরও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়—৭৭০টি মোটরসাইকেল এবং ২৯৩টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষা করছিল।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যআয়ের চালকেরা, যাদের দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবারের খরচ। তেলের অভাবে তাদের কাজ বন্ধ, আর কাজ বন্ধ মানেই আয়ের পথও বন্ধ। ফলে প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটানোই হয়ে উঠছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।