শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ভোলা সার্কিট হাউসে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক জামিন সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কথা জানান।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং তারা নিশ্চয়ই সব দিক বিবেচনা করেই এই জামিন দিয়েছেন। তার ভাষায়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আদালতের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে সম্মান করা নাগরিকদের দায়িত্ব। ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, এই আইনি প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি একটি ভালো দৃষ্টান্ত।
দলীয় রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি ইতোমধ্যে দলীয় সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে জটিল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে তিনি এখন আর নিজেকে সম্পৃক্ত রাখছেন না। তবে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে তার প্রত্যাশা স্পষ্ট—সব দলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, পারস্পরিক সম্মান ও গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় থাকলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হয়।
গত দুই দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনো স্বৈরশাসন মেনে নেয়নি। বরং নানা প্রতিকূলতা, অত্যাচার-নিপীড়ন, গু’\ম ও খু’\ন-এর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও তারা গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার মতে, দীর্ঘ সময় প্রকৃত গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত থাকার পরও জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনকে তিনি একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বে সরকার দেশের মানুষের জন্য উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান দায়িত্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং বর্তমান সরকার সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কাউকে যেন হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার হতে না হয়—এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান (Dr. Shamim Rahman) এবং পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার (Shahidullah Kawser)। এছাড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর (Golam Nabi Alamgir) এবং সদস্য সচিব রাইসুল আলম (Raisul Alam) সহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
