ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান অ্যাসোসিয়েশন এগ্রিমেন্ট বা অংশীদারিত্ব চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আহ্বান জানাতে যাচ্ছে স্পেন। এমনটাই ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ (Pedro Sanchez), যা ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্দালুসিয়ায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, যে সরকার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং ইউরোপীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে, তাদের সঙ্গে কোনো অংশীদারিত্ব বজায় রাখা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গলবার লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব উত্থাপন করবে।
সানচেজ তার বক্তব্যে অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেও স্পেনের এই অবস্থান সমর্থনের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, স্পেনের অবস্থান কোনোভাবেই ইসরায়েল (Israel)-এর জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং বর্তমান সরকারের নীতির বিরুদ্ধে। ইসরায়েল-ইরান চলমান সংঘাতকে তিনি “একটি বিরাট ভুল” হিসেবে আখ্যা দেন।
তার ভাষায়, এই সংঘাত শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না—হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি, লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)-কে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চাপ দেন।
এর আগে, ২০২৪ সালে স্পেন ও আয়ারল্যান্ড (Ireland) প্রথমবারের মতো এই চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল। ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তির আওতায় মুক্ত বাণিজ্যসহ নানা সুবিধা থাকলেও, এতে মানবাধিকার রক্ষার বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে ইইউ চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নে সম্মত হয়। এর এক মাস পর ইউরোপীয় কমিশন (European Commission) জানায়, ইসরায়েল মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করতে পারে—এমন কিছু ‘লক্ষণ’ তারা পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে তখন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি মাদ্রিদ আবারও আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে চুক্তি বাতিলের আলোচনা নতুন করে শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ ইইউ’র অভ্যন্তরে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ইউরোপের অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে সানচেজ বিশ্বাস করেন, কূটনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাই ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য করতে পারে।
লুক্সেমবার্গ বৈঠকে স্পেনের এই প্রস্তাব কতটা সমর্থন পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এর ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতে ইইউ-ইসরায়েল সম্পর্কের গতিপথ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


