ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র পতনের পর তার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের কথা জানিয়েছেন জিএম কাদের (GM Quader)। তবে ঠিক কবে এই কথা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করেননি তিনি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) এক সংবাদমাধ্যমের টকশোতে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথা হয়েছে, তবে তা ছিল কেবল সৌজন্যমূলক। উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, কথা হয়েছে। উনি তেমন কিছু বলেননি। এমনি কুশল বিনিময় করেছেন—ভালো আছেন ইত্যাদি।”
শেখ হাসিনা কবে দেশে ফিরতে পারেন বা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের কোনো আলাপ হয়নি। “কেমন আছেন, ভালো আছেন—এই ধরনের কথাই হয়েছে,” যোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তাই সে ধরনের আলোচনা হওয়ার প্রশ্নও ওঠে না।
আলোচনায় উঠে আসে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (National Citizen Party – NCP)-কে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কও। এনসিপির পক্ষ থেকে অতীতে ছাত্রলীগে যুক্ত থাকলেও দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে—এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জিএম কাদের প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগেও বলেছিলাম, হঠাৎ করে এনসিপি আমাদের পেছনে লাগলো কেন? আমার ধারণা, তারা আমাদের ভোটব্যাংক নিতে চায়।” তার মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নেওয়া কঠিন, বিএনপির ক্ষেত্রে তো প্রশ্নই আসে না। আর এনসিপিকে অনেকেই জামায়াতের অংশ হিসেবেই দেখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জিএম কাদের আরও বলেন, “মানে এনসিপিতে জয়েন করলে সব দোষ মাপ। আর এর আগে তারা দোসর, তারা ক্রিমিনালস—এই ধরনের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড খুব একটা গ্রহণযোগ্য হবে না।”
তার এই মন্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলগুলোর পারস্পরিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজনীতির ভেতরের সম্পর্ক, দূরত্ব এবং কৌশল—সবকিছুই যেন নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে।
