বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’—এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক সুমন ভুঁইয়া (Suman Bhuiyan) এই নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হুমায়ূন কবীর (Humayun Kabir) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দেয়।
মামলার বাদী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হুমায়ূন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত প্রাথমিকভাবে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
অভিযোগের সূত্রপাত একটি ভিডিও ক্লিপকে ঘিরে। প্রায় এক মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা (Mufti Amir Hamza)-কে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (Iqbal Hasan Mahmud Tuku)-কে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তিনি বলেন, মন্ত্রী ‘নাস্তিক’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’, এমনকি ‘আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী’ বলেও উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী নন, বরং তার বক্তব্য নির্দিষ্টভাবে ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে।
এছাড়া বক্তব্যে তিনি মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন—“এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য কি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে কেন হয়েছিল?”—এমন প্রশ্নও উত্থাপন করতে শোনা যায় তাকে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এখনও জীবিত আছেন, তাদের কাছ থেকেই এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে।
এই বক্তব্য প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতেই মামলাটি দায়ের এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ আসে।


