‘চাওয়ালা’ থেকে ঝালমুড়ি—খাবার রাজনীতিতে মোদীকে কটাক্ষ, পাল্টা বার্তাও বিশ্লেষকদের

“আগে বলতো ‘চাওয়ালা’, এখন বলছে ঝালমুড়ি খাচ্ছি। আমি বলি, একবার মাছটা খেয়ে দেখবেন?”—এমন মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে খাবার নিয়ে রাজনীতি। সমালোচনার সুরে বক্তব্যটি উঠে আসে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party – BJP)-কে লক্ষ্য করে।

সমালোচনায় আরও বলা হয়, “যার নিরামিষ খাওয়ার ইচ্ছা, সে নিরামিষ খাবে। আমি তো লিট্টিও খাই, ছাতুও খাই, আবার ধোকলাও খাই। আমরা যদি সবার খাবার খেতে পারি, তাহলে মাছ-মাংস-ডিম বন্ধ করবেন কেন? আমরা কারও খাবারে হস্তক্ষেপ করি না, আপনারা কেন করেন?”—এই বক্তব্যে খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে স্পষ্টভাবেই।

এদিকে, রোববার (১৯ এপ্রিল) নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় সভা করেন। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর ও ঘাটালে ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। দিনব্যাপী এসব সভার পর ঝাড়গ্রামের সভা শেষে হেলিপ্যাডের পথে যাওয়ার সময় একটি ঝালমুড়ির দোকানে হঠাৎ করে থামেন প্রধানমন্ত্রী।

দোকানির সঙ্গে স্বাভাবিক আলাপে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি কেনেন। ঝালমুড়ি তৈরির সময় পেঁয়াজ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে হাস্যরস করে মোদী বলেন, “মানুষের ভেজা ছাড়া আমি সবই খাই।” তার এই মন্তব্য ঘিরে উপস্থিত জনতার মধ্যে হাসির রোল পড়ে।

এরপর সবার সামনে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেতে শুরু করলে কৌতূহলী মানুষজন ভিড় জমাতে থাকেন। পুরো ঘটনাটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে শুরু হয় নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি নিছক একটি সাধারণ মুহূর্ত নয়; বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি সচেতন প্রয়াস। একইসঙ্গে বাংলায় আমিষ খাবার বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন যে আশঙ্কা রাজনৈতিকভাবে ছড়ানো হচ্ছিল, সেটিকে প্রশমিত করার একটি বার্তাও এখানে নিহিত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা।