তাকে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল—যদি তিনি দিলপ্রীত বাজওয়া এবং আরেক তরুণ খেলোয়াড়ের পদোন্নতিকে সমর্থন না করেন, তবে তার এবং তার পরিবারের জন্য পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এমন ভয়ঙ্কর হুমকির মধ্য দিয়েই সামনে এসেছে ক্রিকেট কানাডার ভেতরের এক অন্ধকার চিত্র।
তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ক্রিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং জাতীয় দলে নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড় বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ঘটনাগুলো শুধু গুজব নয়—বরং প্রমাণসহ উঠে এসেছে একাধিক অভিযোগ। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অত্যন্ত বিতর্কিতভাবে বাজওয়াকে অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়, যা নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল।
‘নোহ’ ছদ্মনামে পরিচিত এক ব্যক্তি ক্রিকেট কানাডা (Cricket Canada) সংক্রান্ত এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, তিনি বিরোধিতা করার মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে নিজের ফোনে একটি ছবিসহ হুমকি পান। সেই বার্তাটি এতটাই ভীতিকর ছিল যে, তা তাকে গভীর আতঙ্কে ফেলে দেয়।
এই কেলেঙ্কারিতে বর্তমান সভাপতি আরভিন্দর খোসা (Arvinder Khosa)-র নামও জড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হুমকি প্রদানকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং বাজওয়াকে অধিনায়ক করার প্রস্তাবদাতাদের মধ্যেও তিনি অন্যতম ছিলেন। তবে খোসা সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক কোচ খুররম চৌহান (Khurram Chauhan)-কেও অতীতে বোর্ডের নির্দিষ্ট কিছু সদস্য ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। এই অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং বোর্ডের ভেতরের অনিয়ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং (Lawrence Bishnoi Gang), যারা দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাঁদাবাজি এবং গু’\লি চালানোর মতো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত, সম্প্রতি কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই গোষ্ঠীর সঙ্গে ক্রিকেটের মতো একটি ভদ্রলোকের খেলাকে জড়িয়ে পড়তে দেখে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—খেলার মাঠের বাইরে ঠিক কতটা নিরাপদ রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসন?
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি (NDTV)


