যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (Washington University of Science and Technology) তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ (Abubakar Hanif)—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে।
শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন এবং তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্ব রাজনীতির আকাশে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। ইরান (Iran)-এর আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, চীনের ‘ওয়াই-২০’ সামরিক কার্গো বিমানগুলো ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে প্রবেশ করেছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪ (Flightradar24)-এও এমন কোনো তথ্য মেলেনি। বিশ্লেষকরা একে সম্ভাব্য গুজব বা মিসইনফরমেশন হিসেবে দেখছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট (U.S. State Department) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যদিও ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু রয়েছে, তবে শর্ত কঠোর হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড জমা দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে।
একইসঙ্গে ৩০ মার্চ থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। গত পাঁচ বছরের ডিজিটাল কার্যক্রম যাচাই করে নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর মাঝেই আরেকটি বিতর্কিত দাবি নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। জো বাইডেন (Joe Biden)-কে ২০১৯ সালে হ’\ত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে—এমন দাবি উঠে এসেছে জেফরি এপস্টেইন (Jeffrey Epstein) সংশ্লিষ্ট কিছু নথিতে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই এবং বিশেষজ্ঞরা এটিকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, একদিকে প্রবাসে বাংলাদেশিদের অর্জন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্ব রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


