হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে লন্ডনে বহুজাতিক বৈঠক, ৩০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার ও নিরাপদ রাখার উপায় খুঁজতে লন্ডন (London)-এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছে ৩০টিরও বেশি দেশ। কৌশলগত এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য (United Kingdom) ও ফ্রান্স (France)।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই দুই দিনব্যাপী বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের সামরিক পরিকল্পনাবিদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা। গত সপ্তাহেই এক ডজনের বেশি দেশ জানায়, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক মিশনে অংশ নিতে প্রস্তুত।

একইসঙ্গে ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৫০টি দেশ এই প্রস্তাবিত মিশনে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য নিরাপত্তা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

এদিকে, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সমর্থন দেয়নি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এই প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একটি অনলাইন ভিডিও কনফারেন্স আয়োজন করে, যেখানে প্রায় ৫০টি দেশ অংশ নেয়। সেখানেই লন্ডনে সরাসরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

পৃথক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি (John Healey) জানান, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক ঐকমত্যকে বাস্তব পরিকল্পনায় রূপ দেওয়া।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান (Iran), যুক্তরাষ্ট্র (United States) এবং ইসরায়েল (Israel)-এর মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এই সংকটের চাপ অনুভব করতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে লন্ডনের বৈঠককে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।