সরকারি চাকরি ছাড়ার শর্তে বাধা—মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল, আপিলের প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন (Monira Sharmin)-এর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান রিটার্নিং অফিসার ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান (Moin Uddin Khan)। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

তবে এখানেই শেষ নয়—রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির উপসচিব মনির হোসেন (Monir Hossain)। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আসনটি শূন্য হলে তা সব দল ও জোটের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এই নির্বাচনে জামায়াত জোটের মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। বুধবার অনুষ্ঠিত বাছাইয়ে ১২ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হলেও মনিরা শারমিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে বৃহস্পতিবার তা চূড়ান্ত করা হয়।

এর আগে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধান উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। মনিরা শারমিনের জমা দেওয়া কাগজপত্রে সরকারি পে-স্কেলের উল্লেখ থাকায় তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হয়নি।

মনোনয়ন বাতিলের পর প্রতিক্রিয়ায় মনিরা শারমিন জানান, তিনি আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে দ্রুত আপিল করবেন। তার আইনজীবী নাজমুস সাকিব বলেন, “আগামী রোববার নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হবে। আমরা আশাবাদী, প্রার্থিতা ফিরে পাব। পুরো বিষয়টি বুঝেশুনেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া হয়েছে।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে তুলনামূলক নতুন হলেও দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠা মনিরা শারমিন ২০২৫ সালের মার্চে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (Bangladesh Krishi Bank)-এ অফিসার জেনারেল হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর নেওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। এই বিধানই শেষ পর্যন্ত মনিরা শারমিনের প্রার্থিতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৮ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission), যার নেতৃত্বে রয়েছেন এএমএম নাসির উদ্দীন। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন হয়। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আপিলের সুযোগ রয়েছে, আর ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহার, ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ এবং আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।