যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (U.S. Department of Homeland Security)–এর সন্ত্রাসবিরোধী শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। ২৯ বছর বয়সী ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জুলিয়া ভারভারো (Julia Varvaro)-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপনের খরচ মেটাতে বিত্তশালী পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারভারো বিভিন্ন ডেটিং সাইট ব্যবহার করে বয়স্ক ও ধনী পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতেন এবং সেখান থেকে নিজের ব্যয়ভার বহন করাতেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye)।
অভিযোগকারী ব্যক্তি, যিনি প্রতিবেদনে ‘রবার্ট বি’ নামে পরিচিত, দাবি করেছেন যে ‘হিঞ্জ’ নামের একটি ডেটিং প্ল্যাটফর্মে তাদের পরিচয় হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন মাসের সম্পর্কের মধ্যেই ভারভারো তার কাছ থেকে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ উপহার ও ভ্রমণ ব্যয় আদায় করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘সিকিং ডটকম’ নামের একটি বিতর্কিত ডেটিং সাইটে ‘আলেসিয়া’ নামে একটি প্রোফাইল রয়েছে, যা ভারভারোর বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে নিজেকে আকর্ষণীয় ও পরিশীলিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করে ধনী পুরুষদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হতো। রবার্ট বি মনে করেন, এই ধরনের আচরণ এবং অতিরিক্ত বিলাসী প্রবণতা ভারভারোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিতে পরিণত করতে পারে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রবার্ট বি শুধু ভারভারোর অ্যাপার্টমেন্টের অর্ধেক ভাড়া বহনই করেননি, তাকে আরুবা, সুইস আল্পস ও ইতালির মতো ব্যয়বহুল গন্তব্যে ভ্রমণেও নিয়ে গেছেন। এছাড়া কার্টিয়ার ব্র্যান্ডের গয়না, দামি হ্যান্ডব্যাগসহ বিভিন্ন বিলাসপণ্যে অন্তত ৪০ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারভারো নিজেকে ‘বস প্রিন্সেস’ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং নিয়ম-কানুন বা মাদক পরীক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতেন না।
এমনকি তাদের একসঙ্গে মারিজুয়ানা সেবনের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থা—যেমন সিআইএ (CIA) বা এফবিআই (FBI)—এর চাকরির ক্ষেত্রে মাদক সেবন গুরুতর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে জুলিয়া ভারভারো তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। ডেইলি মেইলকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ‘সিকিং ডটকম’-এ তার কোনো প্রোফাইল নেই এবং এসব অভিযোগ তার এক ‘উন্মাদ প্রাক্তন প্রেমিকের’ সাজানো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যদিও তদন্তকারীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন, বিশেষ করে তার ইনস্টাগ্রামের ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলের ছবির মিল রয়েছে কি না।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের সময়কার শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত আচরণ নিয়ে যখন নানা বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে এই অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের ভাবমূর্তির ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।


