ভারতকে ‘জা’\হান্নাম’ হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর শেয়ার করা একটি পোস্ট ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত (India)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে ‘অসংলগ্ন, অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ’ বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানায়। খবর প্রকাশ করেছে এএফপি (AFP)।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন নিয়ে একটি দীর্ঘ পডকাস্ট শেয়ার করেন। সেখানে অভিযোগ তোলা হয়, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো থেকে আগত অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব সুবিধা নিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা প্রযুক্তিখাতে প্রভাব বিস্তার করছে এবং শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও দাবি করা হয়।
বিতর্কিত ওই পোস্টে আরও বলা হয়, একটি শিশু জন্মের পরপরই মার্কিন নাগরিক হয়ে যায় এবং এরপর তার পরিবার চীন, ভারত কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো ‘জা’\হান্নাম’ থেকে এসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করে। এই ভাষা ব্যবহারকে ঘিরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল (Randhir Jaiswal) এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শেয়ার করা এসব মন্তব্য তথ্যভিত্তিক নয় এবং তা রুচিবোধেরও পরিপন্থী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের মন্তব্য ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না; বরং দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতা আমি বেরা (Ami Bera) এই পোস্টকে ‘আপত্তিকর ও অজ্ঞতাসূচক’ হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, সম্পদ ও বিলাসিতার মধ্যে বেড়ে ওঠা একজন ব্যক্তি কখনোই অভিবাসী পরিবারের বাস্তব সংগ্রাম বুঝতে পারবেন না।
অন্যদিকে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (Hindu American Foundation – HAF) ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ঘৃণ্য ও বর্ণবাদী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি অসম্মানজনক।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীদের বহুল ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার ওপর কঠোর অবস্থান এবং ভারতের পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে।


