কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জন্য ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান (Iran)। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি (Kazem Jalali)-এর বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে একটি রুশ সংবাদ সংস্থা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি (RIA Novosti)-র প্রতিবেদনে বলা হয়, “আমরা কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে কী হবে তা আমি জানি না।”
রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য এই বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এর একটি উদাহরণ হিসেবে তিনি রাশিয়া (Russia)-কে উল্লেখ করেন।
এর আগে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের কথা বলে আসছিল ইরানি কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজি বাবেই প্রথমবারের মতো টোল আদায় সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেন। আধাসরকারি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজকে তিনি জানান, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা রাজস্ব আরোপের পর প্রথম সংগৃহীত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজপ্রতি কত টোল নেওয়া হয়েছে বা মোট কত অর্থ সংগ্রহ হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
কৌশলগত এই জলপথ—যেখান দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল ও জ্বালানি পরিবাহিত হয়—সেখানে টোল আরোপ এবং একই সঙ্গে নির্দিষ্ট দেশের জন্য ফি মওকুফের ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি জব্দের ঘটনার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো।
এদিকে ইরান সরকারের এই পদক্ষেপ কবে থেকে কার্যকর হবে বা কোন কোন দেশ এই সুবিধার আওতায় পড়বে—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye), আল-জাজিরা (Al Jazeera)


