বর্তমান সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে তুলে ধরেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন (Farzana Sharmin)। তিনি জানিয়েছেন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে দেশের ওপর অতিরিক্ত ঋণের চাপ বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নিয়েই আয়োজন করা হয় এই বিতর্ক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ থাকলেও বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। তিনি জানান, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, স্কোরিং পদ্ধতি এবং আইবাস ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী এই কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ও প্রয়োজনভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি (Debate for Democracy)-এর চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ (Hasan Ahmed Chowdhury Kiran)। তিনি বলেন, সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিঃসন্দেহে সরকারের একটি সাহসী উদ্যোগ। তবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সুশাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শুধু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নই যথেষ্ট নয়—প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
