ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) থেকে মনোনয়ন পাওয়া নিপুণ রায় চৌধুরী (Nipun Roy Chowdhury)-এর দাখিল করা হলফনামায় ৫০২ ভরি স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়নার তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (Gayeshwar Chandra Roy)-এর বরাদ্দ বাজেট থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় বায়তুন নূর জামে মসজিদের সংস্কারকাজে অনুদান দিতে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য, নিপুণ রায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ছেলে অমিতাভ রায়ের স্ত্রী এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বর্ণালংকারের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নিপুণ রায় বলেন, “আমার নিজ পরিবার ও শ্বশুরবাড়ি—এই দুই পরিবারই ভগবানের দান। জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে—এসবই তো ভগবানের দান। সেই দিক থেকে আমি রাজকপালী।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে-পরে এবং পরবর্তী সময়ে পিতৃকুল, মাতৃকুল, শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া উপহার হিসেবেই এসব স্বর্ণালংকার তার কাছে এসেছে।
তিনি আরও জানান, এসব সম্পদের তথ্য তিনি নতুন করে প্রকাশ করেননি। ২০২৪ সালের জুন মাসে দেওয়া আয়কর বিবরণীতেও এই তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যান্য ধাতুসহ দেড় লাখ টাকা ভরি দরে হিসাব করে তিনি আনুমানিক ১০ কোটি টাকার সম্পদ ঘোষণা করেছেন এবং সেটি সততার সঙ্গেই করেছেন বলে দাবি করেন।
শুধু স্বর্ণালংকারই নয়, নিজের অন্যান্য সম্পদের কথাও তুলে ধরেন নিপুণ রায়। তার একটি ফ্ল্যাট ও দুটি গাড়ি রয়েছে, যেগুলোর তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গাড়ি ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার কার লোন এবং ২০ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিপুণ রায় পরিবারের অতীত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার বাবা নিতাই রায় চৌধুরী এরশাদ আমলে মন্ত্রী থাকলেও তার নামে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সেই সততার স্বীকৃতি হিসেবে খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং ২০০১ সালে মনোনয়ন দেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও অংশ নেন তিনি। সর্বশেষ তারেক রহমান (Tarique Rahman) তার বাবাকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন দেন এবং বিজয়ের মাধ্যমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন বলে উল্লেখ করেন নিপুণ রায়।
শ্বশুরের রাজনৈতিক জীবন নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা, যিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং তার জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে সবাই অবগত।
সবশেষে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী সুরে কথা বলেন নিপুণ রায়। তিনি বলেন, “আগামী দিনে আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে রাজনীতির ময়দানে থাকতে চাই। আমি আপনাদের অগ্নিকন্যা হতে পেরেছি আমার কর্মের মাধ্যমে। আমি সততার মাধ্যমেই আমার দায়িত্ব পালন করব। অনেকে সাহস করে বলতে পারে না, ঘোষণা দিতে পারে না—আমি সাহস করে আগেই ঘোষণা দিয়েছি। এটাই আমার সততা।”


