মধ্যপ্রদেশে এক বিস্ময়কর ও আলোচিত ঘটনায় ২৮ বছরের দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটিয়েছেন এক নারী, যা এখন আইনি লড়াইয়ের নতুন মোড় নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্বামীর নিজের বোনকেই ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি আদালত থেকে ডিভোর্স আদায় করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চে বিচারাধীন, যেখানে স্বামী একতরফাভাবে দেওয়া ডিভোর্স রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গোয়ালিয়রের বাসিন্দা ওই নারী ১৯৯৮ সালে একটি মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সংসার চললেও পেশাগত কারণে স্বামীকে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। এই দূরত্ব ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েন তৈরি করে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ২০১৫ সাল থেকে তারা আলাদা বসবাস শুরু করেন। কয়েক বছর আলাদা থাকার পর ২০২১ সালে ওই নারী পারিবারিক আদালতে ডিভোর্সের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি দাবি করেন, তার স্বামী দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন।
এই দাবির পক্ষে তিনি একটি পারিবারিক গ্রুপ ছবি আদালতে জমা দেন। ছবিতে দেখা যায়, তার স্বামী তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাদের পাশে থাকা আরেকজন নারীকে তিনি স্বামীর ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। আদালত সেই ছবিকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে এবং নারীর পক্ষে একতরফা ডিভোর্সের রায় দেয়।
তবে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে স্বামী হাইকোর্টে আপিল করেন। তার দাবি, যাকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলা হয়েছে, তিনি আসলে তার নিজের বোন। ফলে পুরো বিষয়টি ভুল উপস্থাপন করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এখন গোয়ালিয়র বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছে, যেখানে আদালতকে নির্ধারণ করতে হবে—প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত তথ্য কতটা সঠিক ছিল এবং সেই ভিত্তিতে দেওয়া ডিভোর্স রায় কতটা বৈধ।


