জয় দিয়ে সিরিজ শুরু—এ যেন আত্মবিশ্বাসের এক জোরালো বার্তা। বাংলাদেশ (Bangladesh) টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড (New Zealand)-কে ৬ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আর এই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন তরুণ ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় (Towhid Hridoy), যার আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম (Bir Shreshtha Matiur Rahman Stadium)-এ টস জিতে প্রতিপক্ষকে আগে ব্যাট করতে পাঠান টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস (Liton Das)। ব্যাট হাতে নেমে শুরুটা বেশ জমিয়ে তোলে কিউইরা। ক্লার্ক ও ক্লেভারের দারুণ দুই ফিফটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান তোলে সফরকারীরা।
দুজনেই সমান ৫১ রান করে আউট হন, যা ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। কেলি ২৭ বলে ৩৯ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ইনিংসের শেষ দিকে ক্লার্কসনের ১৪ বলে ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস স্কোরটাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তোলে।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মন্দ করেনি বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৪১ রান। তবে রান তোলার গতি ছিল কিছুটা ধীর। সাইফ ১৬ বলে ১৭ রান করে ফিরে গেলে চাপ তৈরি হয়।
এরপর তানজিদের সঙ্গে যোগ দেন লিটন দাস। দুজনই গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। লিটন কিছুটা আগ্রাসী হয়ে উঠলেও দলীয় ৬৬ রানে ১৫ বলে ২১ রান করে আউট হন। এরপর তানজিদও ২৫ বলে ২০ রান করে ফিরে গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কিউইদের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব তাওহিদ হৃদয়ের। পারভেজ ইমনের সঙ্গে জুটি গড়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তিনি। দুজন মিলে গড়েন ৫৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ইমন ১৪ বলে ২৮ রান করে বিদায় নিলেও তার ইনিংসে ছিল এক চার ও দুই ছক্কার ঝলক।
ইমনের বিদায়ের পর শামীম হোসেনকে নিয়ে আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন হৃদয়। কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হন দুজনই। মাত্র ২৬ বলেই নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়, যা ম্যাচের গতিপথ একেবারে বদলে দেয়।
শেষ পর্যন্ত এই জুটির ব্যাটিংয়েই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। ১২ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টাইগাররা। হৃদয় ২৭ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন, তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছক্কা। অন্যদিকে শামীম ১৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন, যেখানে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছক্কার দাপট।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়—এটি একটি বার্তা, সিরিজে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ।
