দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী :contentReference[oaicite:0]{index=0} বলেছেন, কোনোভাবেই যেন আবার বিশৃঙ্খলার সুযোগ তৈরি না হয়। তিনি স্পষ্ট করে দেন, জনগণের শান্তি বিঘ্নিত করে দীর্ঘদিনের হরতালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে। “কোনো জুজুবুড়ির ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না”—এভাবেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে :contentReference[oaicite:1]{index=1} কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জেলা :contentReference[oaicite:2]{index=2} (বিএনপি) আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও অবস্থান স্পষ্টকরণ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই সনদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—যারা স্বৈরাচার পতনের পরপরই ক্ষমা করার কথা বলেছিল, কিংবা গোপনে বৈঠক করেছে, তারা কি সত্যিই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে? নাকি যারা সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কিংবা কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিচ্ছে, তারাই জনগণের কথা বলছে? জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৯৬, ২০০৮—প্রতিটি সময়েই তারা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এবং এখনো একই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। “দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম আর রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে। এখন সময় দেশ গড়ার,”—যোগ করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ এই সনদের পক্ষে মত দিয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, ওই সনদের প্রতিটি শব্দ ও লাইন সংসদে পাস করানো হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী নির্বাচনের আগে ভুয়া টিকিট বিক্রির মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। “আমরা টিকিট বিক্রি করি না, আমরা কাজ করি”—বলে তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি :contentReference[oaicite:3]{index=3} এবং :contentReference[oaicite:4]{index=4}-এর দল হিসেবে বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
নারী ও কৃষকের জন্য পরিকল্পনা
দেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেকই নারী—তাদের পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের স্বাবলম্বী করতে ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং মেধাবীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। রান্নার কষ্ট কমাতে এলপিজি গ্যাস কার্ড চালুর সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।
কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকার ঋণ সুদসহ মওকুফ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন। পাশাপাশি কৃষক কার্ড বিতরণও শুরু হয়েছে।
বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ পাঁচ বছরের জন্য বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণ যদি অন্য কাউকে নির্বাচিত করে, তখন তারা কাজ করবে—এটাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
দিনভর কর্মসূচি
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে শার্শার উলাশীতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত খাল পুনর্খনন কাজ উদ্বোধন করেন। পরে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং যশোরা ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন শেষে সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ গ্রহণ করেন। বিকেলে পায়ে হেঁটে জনসভাস্থলে পৌঁছান তিনি।
