সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকিরের বিরুদ্ধে ঘু’\স-দুর্নীতির নতুন তদন্ত শুরু

সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার :contentReference[oaicite:0]{index=0}-এর বিরুদ্ধে ঘু’\স ও দুর্নীতির অভিযোগে পুনরায় তদন্ত শুরু করেছে :contentReference[oaicite:1]{index=1}। সোমবার সরেজমিনে তদন্তে আসেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব :contentReference[oaicite:2]{index=2}।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২২ এপ্রিল তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করেন তিনি।

বিতর্কিত সম্পদ ও দীর্ঘদিনের অভিযোগ

দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, জাকির হোসেনের চাকরির বয়স মাত্র ৯ বছর। ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট তিনি চাকরিতে যোগ দেন। অথচ এই স্বল্প সময়ে তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর নিকটবর্তী :contentReference[oaicite:3]{index=3}-এ বর্তমান কর্মস্থলকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে ধরা হয়। এর আগে তিনি জামালপুরের বকশীগঞ্জ, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিটি কর্মস্থলেই তার বিরুদ্ধে ঘু’\স কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার করে নানা অনিয়ম চালিয়ে আসছেন।

‘ম্যানেজ মাস্টার’ পরিচিতি ও প্রভাব বলয়

সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন স্থানীয়ভাবে ‘ম্যানেজ মাস্টার’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি বুঝে প্রভাবশালী মহলকে নিজের অনুকূলে নেওয়ায় তিনি দক্ষ। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এর ফলে অতীতে তাকে কোনো বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি বলেও জানা যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পরপরই স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি ‘প্রটেকশন সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলেন তিনি। এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে সেবাপ্রার্থী এবং অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ

তদন্তে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দলিল লেখক কাজী ফরহাদ হোসেন অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। টাকা না দিলে দলিলে ত্রুটি দেখিয়ে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান সাব-রেজিস্ট্রার।

একই ধরনের অভিযোগ করেন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের শোভাপুর গ্রামের আবুল হোসেন। তিনি জানান, ফ্ল্যাট বিক্রির একটি জটিলতা নিয়ে গেলে জাকির হোসেন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং দারোয়ান দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে সাভারে যোগদানের পর থেকেই জাকির হোসেন অনুগত দলিল লেখকদের বাইরে অন্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অফিসের ভেতরেই কর্মচারীদের মারধরের ঘটনাও ঘটেছে, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংক্রান্ত দলিলে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। অন্যান্য দলিলেও সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সম্পদের খোঁজ ও আর্থিক অনুসন্ধান

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর লালবাগ এলাকার আজিমপুর রোডে জাকির হোসেনের একটি ফ্ল্যাট এবং একটি দামি গাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের চিঠিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট থেকে জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী মনিরা সুলতানার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছিল। তবে সেই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত চলমান, সিদ্ধান্ত পরে

এ বিষয়ে মো. মঈনুদ্দিন কাদির বলেন, অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, একই ধরনের অভিযোগে ২০২৫ সালের জুন মাসেও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছিল। তখন :contentReference[oaicite:4]{index=4} তদন্ত করলেও পরবর্তীতে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।