নিউমার্কেট এলাকায় অতর্কিত গু’\লি হামলা—শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন নি’\হত, পুরনো দ্বন্দ্ব ঘিরে নতুন শঙ্কা

রাজধানীর নিউমার্কেট সংলগ্ন শহীদ শাহনেওয়াজ হলের সামনে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ড। দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গু’\লি হামলায় নি’\হত হওয়া যুবক দেশের অন্যতম আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন—এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (Dhaka Metropolitan Police)।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Dhaka Medical College Hospital)-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রায় দুই দশক কারাগারে কাটানোর পর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন—যা এই ঘটনার প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম নি’\হতের পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে দীর্ঘদিনের বিরোধের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের সঙ্গে টিটনের দ্বন্দ্ব ছিল প্রকাশ্য। পারিবারিক সম্পর্কেও তারা যুক্ত—টিটন ছিলেন ইমনের শ্যালক। ফলে এই হ’\ত্যা’\র পেছনে ব্যক্তিগত ও অপরাধ জগতের দ্বন্দ্ব একসঙ্গে কাজ করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলের বর্ণনায় উঠে এসেছে আতঙ্কের চিত্র। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নীলক্ষেত সংলগ্ন বটতলা এলাকায় টিটন হেঁটে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গু’\লি চালায়। মুহূর্তেই এলাকা আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। গু’\লি’\বিদ্ধ টিটনের শরীরে মোট পাঁচটি গু’\লি লাগে—মাথায় তিনটি, বাহুতে একটি এবং বগলের নিচে একটি। আক্রমণের পর স্থানীয়রা ধাওয়া দিলেও হামলাকারীরা ফাঁকা গু’\লি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দ্রুত পালিয়ে যায়। তাদের মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক থাকায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে থাকা টিটন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের পতনের পর মুক্তি পাওয়া আলোচিত সন্ত্রাসীদের একজন। তবে মুক্তির পর তিনি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি। আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। হ’\ত্যা, চাঁদাবাজি ও সহিংস অপরাধে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বর্তমানে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। জনবহুল এলাকায় এমন দুঃসাহসিক হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

পুলিশ বলছে, পুরনো শত্রুতার পাশাপাশি এই হ’\ত্যা’\র পেছনে অন্য কোনো পরিকল্পিত উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি এখন সবার নজরে।