রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)-এর সঙ্গে বুধবার প্রায় দেড় ঘণ্টার একটি টেলিফোন আলাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এই আলাপের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা, ইউক্রেন সংঘাত এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণ।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন পুতিন। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে যে দীর্ঘদিনের বিরোধ—তা নিরসনে মস্কো একটি মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিতে আগ্রহী বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ওভাল অফিস থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে বলেন, “তিনি (পুতিন) সহায়তা করতে চান। কিন্তু আমি স্পষ্টভাবে বলেছি—আমাকে সহায়তা করার আগে আপনার নিজের যুদ্ধ শেষ করতে হবে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান সামরিক অভিযানের প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত রয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, পুতিন তাকে জানিয়েছেন যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান আলোচনায় তিনি যুক্ত হতে চান এবং এ বিষয়ে কার্যকর সহায়তা দিতে পারেন।
এর আগে ট্রাম্প এই ফোনালাপকে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ইউক্রেন সংঘাতের একটি সমাধান হয়তো দ্রুতই সামনে আসতে পারে।
অন্যদিকে, ক্রেমলিন (Kremlin) সূত্রে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট নিরসনে উভয় পক্ষই বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
ক্রেমলিনের এক কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, আগামী মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিন ইউক্রেনে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি নিশ্চিত হয়নি।
এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র (United States), রাশিয়া (Russia) এবং ইরান (Iran)—তিনটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক এক জটিল ও সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে। ফলে পুতিনের এই প্রস্তাব কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন ও আলজাজিরা


