ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোয় ট্রাম্পকে স্বাগত পুতিনের, লঙ্ঘন হলে ‘বিধ্বংসী পরিণতি’র হুঁশিয়ারি

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন— যদি এই যুদ্ধবিরতি কোনোভাবে ভেঙে যায়, তাহলে তার ফলাফল হতে পারে ‘অত্যন্ত বিধ্বংসী’, যা পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৯ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে টেলিফোনে আলোচনা হয়। এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং ইউক্রেনে চলমান রুশ সামরিক অভিযান ছিল আলোচনার মূল বিষয়।

মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ও পুতিনের ঘনিষ্ঠ মুখপাত্র ইউরি উশাকভ এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই আলোচনা ছিল ‘স্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট’, যেখানে দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

উশাকভ বলেন, আলোচনায় ইরান এবং পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট পুতিন মন্তব্য করেন, ইরানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যথার্থ, কারণ এটি দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি করবে এবং সামগ্রিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখবে।

তবে একইসঙ্গে পুতিন কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দেন— যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই বিরতি লঙ্ঘন করে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে এর প্রভাব শুধু ইরান বা তার প্রতিবেশীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা গোটা বিশ্বের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

তিনি ট্রাম্পকে আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। এ ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হলে রাশিয়া সব ধরনের কূটনৈতিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে একই ফোনালাপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ইউরি উশাকভ জানান, ট্রাম্পের অনুরোধে পুতিন তাকে ইউক্রেন পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। পুতিন বলেন, রুশ বাহিনী বর্তমানে ইউক্রেনে নতুন করে কোনো অঞ্চল দখলের পরিকল্পনায় নেই; বরং ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং প্রতিপক্ষ বাহিনীকে প্রতিহত করাতেই মনোযোগ দিচ্ছে।