ভারতীয় চলচ্চিত্রের বক্স অফিসে যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘদিন ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে থাকা রেকর্ড এবার ভেঙে দিয়েছে ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ (Dhurandhar: The Revenge)। মুক্তির ছয় সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ১,৬৪৬ কোটি রুপি আয় করে সিনেমাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এই অর্জন কেবল সংখ্যার দিক থেকে নয়, বরং দর্শকের রুচির পরিবর্তন, বাজারের বিস্তার এবং বড় বাজেটের সিনেমার নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় এক দশক ধরে যে জায়গায় দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছিল বাহুবলি ২ (Baahubali 2), সেই সিংহাসন এখন দখল করেছে এই নতুন ছবি। প্রায় নয় বছর ধরে অটুট থাকা সেই রেকর্ড মাঝপথে পুষ্পা : দ্য রুল (Pushpa: The Rule) ছুঁয়ে ফেলতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত শীর্ষে উঠতে পারেনি।
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সাফল্যের সবচেয়ে বড় দিক ছিল এর ধারাবাহিক দর্শক আকর্ষণ করার ক্ষমতা। মুক্তির পর থেকেই দেশজুড়ে একের পর এক হাউসফুল শো দিয়েছে সিনেমাটি। শুধু দেশীয় বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
মোট আয়ের বড় অংশ এসেছে ভারতীয় বাজার থেকে—প্রায় ১,২৩৭ কোটি রুপি। আর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে আরও প্রায় ৪০৯ কোটি রুপি। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায়, সিনেমাটি কেবল বড় উদ্বোধনী আয়ের ওপর নির্ভর করেনি, বরং দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই রেকর্ডের বিশেষত্ব হলো এটি সম্পূর্ণ ‘অরিজিনাল রান’ বা প্রাথমিক মুক্তির আয় হিসেবেই অর্জিত। অনেক চলচ্চিত্র পরে চীনসহ অন্যান্য বড় বাজারে মুক্তি পেয়ে আয় বাড়ায়। কিন্তু এই সিনেমা তার সাফল্য পেয়েছে মূল বাজারেই।
ছবিটির জনপ্রিয়তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এর গল্প, অ্যাকশন এবং আবেগের সমন্বয়। এর সঙ্গে প্রধান চরিত্রে রণবীর সিং (Ranveer Singh)-এর শক্তিশালী উপস্থিতি দর্শকদের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ তৈরি করেছে।
অনেকেই মনে করছেন, এটি আধুনিক বাণিজ্যিক সিনেমার একটি নিখুঁত উদাহরণ—যেখানে বিনোদন, ভিজ্যুয়াল স্কেল এবং আবেগ একসঙ্গে কাজ করেছে।
তবে অরিজিনাল রান হিসেবে শীর্ষে উঠে এলেও সামগ্রিক আয়ের বিচারে এখনও এগিয়ে আছে দঙ্গল (Dangal)। কারণ সিনেমাটি পরবর্তীতে চীনসহ বিভিন্ন দেশে মুক্তি পেয়ে বিশাল আয় করেছিল।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন বড় বাজেটের সিনেমা যেমন ‘রামায়ণ’ এবং ‘বারাণসী’ এই নতুন রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভারতীয় সিনেমার বৈশ্বিক বাজারে এই সাফল্য নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে—যেখানে গল্প, প্রযুক্তি ও দর্শকের সংযোগ মিলেই তৈরি হচ্ছে নতুন ইতিহাস।


