বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড – Bangladesh Cricket Board) প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে যাওয়ার পর একে একে সামনে আসছে দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ অনিয়মের নানা চিত্র। নতুন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal) এবার সরাসরি নজর দিয়েছেন আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিকে—আর সেখানেই উঠে এসেছে বিস্ময়কর এক তথ্য।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিসিবির অধীনে কাজ করা পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দৈনিক মজুরি থেকে নিয়মিতভাবে অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসতেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তামিম ইকবাল জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের একটি বড় অংশ মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি তিনি নিজেই সরেজমিনে অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তামিম বলেন, ক্লিনিং সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে ডেকে তিনি জানতে চান—প্রতি কর্মীর জন্য কত টাকা বরাদ্দ। জবাবে বলা হয়, প্রতিজনের জন্য ৬৫০ টাকা করে দেওয়া হয়। হিসাব অনুযায়ী ব্যবসায়িক খরচ ও লাভ বাদ দিয়েও একজন কর্মীর হাতে অন্তত ৫০০ টাকা পৌঁছানোর কথা।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ৫০০ টাকা করে প্রদান করেন ঠিকই, তবে তা সরাসরি কর্মীদের হাতে নয়—বরং বিসিবির এক কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর সেই কর্মকর্তা সেখান থেকে একটি বড় অংশ রেখে দিয়ে অসহায় শ্রমিকদের হাতে মাত্র ৩০০ টাকা তুলে দেন।
এই প্রক্রিয়াকে তামিম ইকবাল স্পষ্টভাবে একটি পরিকল্পিত লুণ্ঠন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিসিবির ভেতরের একটি গোষ্ঠীই ক্লিনার সরবরাহের পুরো ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করছে। টেন্ডার পাওয়া কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করছে তারা, আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনভর কঠোর পরিশ্রম করা নিম্নআয়ের কর্মীরা।
এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর বিসিবির অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও তদারকি ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখনো পর্যন্ত বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, তামিম ইকবালের এই কঠোর অবস্থান বিসিবির আর্থিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
