একটি হেবিয়াস কর্পাস মামলাকে কেন্দ্র করে অদ্ভুত এক পারিবারিক জটিলতার চিত্র উঠে এল আদালতে, যা শেষ পর্যন্ত চমকে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলকেই। দতিয়ার এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ও কন্যাকে তার ভায়রাভাই অপহরণ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এবং পুলিশকে নির্দেশ দেয় অভিযুক্তসহ তথাকথিত ‘অপহৃতদের’ আদালতে হাজির করতে।
আদালতের নির্দেশ মেনে পুলিশ তাঁদের হাজির করলে মামলার গতিপথ নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ‘অপহৃতা’ হিসেবে চিহ্নিত ওই নারী আদালতে স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কাউকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়নি, বরং স্বেচ্ছায় বোনের স্বামীর কাছে গিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি জানান, বর্তমান স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নয় এবং ইতোমধ্যেই তিনি বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও দায়ের করেছেন। তাঁর কথায়, তিনি বোনের স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চান।
ঘটনাটি আরও অপ্রত্যাশিত মোড় নেয় যখন অপর বোনও আদালতে একই রকম বক্তব্য দেন। তিনিও জানান, নিজের স্বামীর সঙ্গে থাকতে তিনি অনিচ্ছুক এবং বোনের স্বামীর সঙ্গেই থাকতে আগ্রহী। এমনকি, আদালতের সামনে দুই বোনই একে অপরের স্বামী ‘বদল’ করে দেওয়ার আবেদন জানান—যা উপস্থিত সকলের মধ্যেই বিস্ময় সৃষ্টি করে।
মামলায় যুক্ত সকল পক্ষই সাবালক হওয়ায় বিচারপতি বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেন। তিনি মন্তব্য করেন, এটি কোনো ফৌজদারি ‘অপহরণ’-এর ঘটনা নয়, বরং একটি জটিল পারিবারিক বিরোধ। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাঁরা চাইলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে আইনি ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা—সম্পর্ক, স্বাধীনতা এবং সামাজিক কাঠামোর সীমারেখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।


