পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাই, পরে অনুরোধে ফেরত—রাজশাহীতে চাঞ্চল্য

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ভবনে নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটেছে। ব্যবহার অযোগ্য মালামাল নিলামের টেন্ডার বাক্স প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের সামনেই ছিনতাই করে নিয়ে যায় একদল টেন্ডারবাজ। পরে পুলিশের অনুনয়-বিনয়ের পর সেই বাক্স আবার ফেরত আনা হয়—যা নিয়ে নগরজুড়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে বিএনপির দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ রেষারেষির জের ধরে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (Rajshahi Development Authority) ও আরএমপির শাহমখদুম থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আরডিএর এক কর্মকর্তা জানান, অতীতে কখনোই এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এই প্রথম টেন্ডারবাজরা সরাসরি ভবনের ভেতর থেকে টেন্ডার বাক্স তুলে নিয়ে বাইরে চলে গেছে, যা প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল আরডিএর প্রকৌশল শাখা ব্যবহার অযোগ্য মালামাল নিলামের জন্য চারটি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করে। মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। এই নিলামের জন্য মোট ৪৫০টি সিডিউল বিক্রি হয়। দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা আরডিএ ভবনে জড়ো হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একদল নেতাকর্মী ভবনে প্রবেশ করে নিচতলায় রাখা টেন্ডার বাক্সটি ঘেঁটে দেখতে থাকে। একপর্যায়ে তারা সেটি তুলে নিয়ে ভবনের বাইরে চলে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, তখন শাহমখদুম থানা (Shahmakhdum Police Station)-এর এক উপ-পরিদর্শকের নেতৃত্বে চারজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো বাধা দেননি।

এর কিছুক্ষণ পর বিএনপির আরেক গ্রুপ সেখানে এসে টেন্ডার বাক্স না পেয়ে হতভম্ব হয়ে পড়ে। পুলিশের কাছ থেকে তারা জানতে পারে, তাদেরই দলের অপর একটি গ্রুপ বাক্সটি নিয়ে গেছে। এরপরই ভবনের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন (Kabir Hossain)। তিনি বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে প্রায় এক ঘণ্টা পর ছিনতাই হওয়া টেন্ডার বাক্সটি উদ্ধার করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।

উদ্ধারের পর দুপুর আড়াইটার দিকে টেন্ডার বাক্স খোলা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান জানান, বেশ কিছু দরপত্রে কাটাকাটির চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

দরপত্র দাখিলকারী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ছিনতাইয়ের পর দুর্বৃত্তরা নিজেদের পছন্দের দরদাতাকে সুবিধা দিতে অন্যদের সিডিউলে কাটাকাটি করে পুনরায় বাক্সে জমা দিয়েছে। যদিও মোট ৪৫০টি সিডিউল বিক্রি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত জমা পড়েছে মাত্র ২০টি। এতে সাধারণ অংশগ্রহণকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে ওসি কবির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই তারা বাক্সটি নিয়ে গিয়েছিল এবং পরে পুলিশের অনুরোধে তা ফেরত দিয়েছে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরডিএ কর্তৃপক্ষ মামলা করলে তা গ্রহণ করা হবে, অন্যথায় পুলিশ নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।