মালয়েশিয়া (Malaysia)-য় অন্যের মাইকার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভর্তুকিযুক্ত পেট্রোল কেনার অভিযোগে এক বাংলাদেশি পেট্রোল স্টেশন কর্মীকে ১০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করেছেন কুয়ালালামপুর (Kuala Lumpur)-এর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। সোমবার আদালতে দোষ স্বীকার করায় তাকে এই সাজা দেওয়া হয়।
দেশটির জনপ্রিয় গণমাধ্যম দি স্টার অনলাইন (The Star Online) এবং ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে (Free Malaysia Today) জানিয়েছে, অভিযুক্ত জাকির হোসেন (Zakir Hossain), বয়স ৫১, ম্যাজিস্ট্রেট আইনা আজাহরা আরিফিনের সামনে দুটি পৃথক অভিযোগ পাঠ করার পর দোষ স্বীকার করেন।
আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, জাকির হোসেন ওয়াংসা মাজুর জালান পাহাং এলাকার একটি শেল পেট্রোল স্টেশনে আইনগত অধিকার বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই ‘লিম মেই চিউ’ নামের এক ব্যক্তির মাইকার্ড রেখে তা ব্যবহার করে ভর্তুকিযুক্ত পেট্রোল ক্রয় করেন। একই সঙ্গে ‘ইয়াপ থিন উই’ নামের আরেক ব্যক্তির মাইকার্ড ব্যবহার করেও একইভাবে পেট্রোল কেনার আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে লিখেছে, আদালত জানিয়েছে, অপরাধ দুটি চলতি বছরের ৮ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিলের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগগুলো জাতীয় নিবন্ধন বিধিমালা ১৯৯০-এর ২৫(১)(ও) বিধানের আওতায় গঠন করা হয়েছে। ওই বিধানে সর্বোচ্চ ২০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা, তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট আইনা আজাহরা আরিফিন প্রতিটি অভিযোগে ৫ হাজার রিঙ্গিত করে মোট ১০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা আরোপ করেন। একই সঙ্গে জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রতিটি অপরাধের জন্য সাত মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কারাদণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে।
সহকারী সরকারি আইনজীবী হেঞ্চ গোহ আদালতে উপযুক্ত শাস্তির আবেদন জানান। তিনি বলেন, মাইকার্ডের মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কারণ তাদের বরাদ্দকৃত ভর্তুকিযুক্ত পেট্রোলের কোটা ব্যবহার হয়ে গেছে।
হেঞ্চ গোহ আরও বলেন, জাকির হোসেন জানতেন যে মাইকার্ডগুলো তার নয়। এরপরও তিনি সেগুলো মালিকদের কাছে ফিরিয়ে না দিয়ে ভর্তুকির জ্বালানি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই ঘটনাটির গুরুতর দিকটি সামনে আসে—অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে শুধু আইন ভাঙাই নয়, বরাদ্দকৃত সরকারি সুবিধার ওপরও প্রভাব ফেলা হয়েছে।


