মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ, ইউনূস-আসিফসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ (Milestone School and College) ক্যাম্পাসে বিমান দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবহেলার অভিযোগ তুলে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Dr. Muhammad Yunus) ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (Asif Nazrul)-সহ মোট ১৬ জনকে আসামি করার আর্জি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলামের আদালতে এ আবেদন করেন দুর্ঘটনায় নি’\হত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা। আদালতে বাদীপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন। তিনি জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

আবেদনে যাদের আসামি করার কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউনূস সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান (Rizwana Hasan), শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার ভাইস মার্শাল মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিংবডির উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রিন্সিপাল (প্রশাসন) মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী, রাজউক (RAJUK) চেয়ারম্যান এবং রাজউকের ফিল্ড সুপার ভাইজার (উত্তরা)।

গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী (Bangladesh Air Force)-এর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের মুখে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ জনের মৃ’\ত্যু হয়, যাদের বেশির ভাগই ছিল শিশু।

মাইলস্টোনের ওই দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি গত ৫ নভেম্বর তখনকার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশিক্ষণার্থী পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটির কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান বীর উত্তম এ কে খন্দকার বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন কলেজের ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং ৩৬ জন নি’\হত হন। নি’\হতদের মধ্যে ২৮ জনই শিক্ষার্থী। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নি’\হত হন।