স্থানীয় নির্বাচনেও জামায়াত-এনসিপি জোটের ইঙ্গিত দিলেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনা চললেও এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও নতুন বার্তা দিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party-NCP)। দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam) জানিয়েছেন, জামায়াত-এনসিপির বিদ্যমান নির্বাচনি জোট ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার বা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও বিস্তৃত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (University of Chittagong) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ইঙ্গিত দেন।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ ঘনিয়ে এলে বোঝা যাবে নির্বাচন এককভাবে হবে নাকি জোটবদ্ধভাবে। তবে অন্যান্য দলের মতো আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এনসিপির সংসদীয় ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার দাবি, দলটি সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করছে। নাহিদ বলেন, “আমরা সংসদকে অকার্যকর করিনি। আগের বিরোধীদলগুলোর মতো আচরণ না করে আমরা সংসদে দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়েছি।”

এসময় ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি (BNP)-র ভূমিকার সমালোচনাও করেন তিনি। নাহিদের ভাষ্য, বিএনপি প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোট আয়োজনের বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, “বিএনপি জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ফলে বিরোধীদলের জায়গা অনেকটাই সংকুচিত। আমরা সংসদে আমাদের দাবিগুলো জানিয়েছি।”

দেশের চলমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট এবং হাম রোগের প্রকোপের মধ্যে নতুন করে রাজপথে অস্থিরতা তৈরি হোক—এটা তারা চান না। তবে সংসদে সমাধান না এলে আন্দোলন রাজপথে গড়াতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা চাই বিষয়গুলোর সমাধান সংসদের ভেতরেই হোক। কিন্তু যদি সেটা না হয়, তাহলে আন্দোলন রাজপথে যাবে। এখন বিএনপি কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না, সেটার ব্যাখ্যা তারাই ভালো দিতে পারবে।”

চট্টগ্রামে রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ (Hasnat Abdullah) এবং এনসিপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান (Dr. Mohammad Al-Forkan) এবং চাকসু নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জোট রাজনীতি এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তারা।