জয়ের সমীকরণে শান্তর লক্ষ্য ৪০০+, পাকিস্তান সিরিজে বড় ইনিংসের স্বপ্ন বাংলাদেশের

নিজেদের প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়তে পারলেই টেস্টের ফল সাধারণত বাংলাদেশের পক্ষেই যায়—সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান যেন সেটিই বলছে। শেষ ১০ টেস্টের মধ্যে চারবার প্রথম ইনিংসে ৪০০ বা তার বেশি রান তুলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচগুলোর মধ্যে দুটি জয়ে শেষ হয়েছে, একটি ড্র হয়েছে, আর বাকি ম্যাচগুলোতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে বড় লক্ষ্য ঠিক করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (Najmul Hossain Shanto)। তার স্পষ্ট চাওয়া—প্রথম ইনিংসে অন্তত ৪০০ কিংবা তারও বেশি রান।

আজ মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম (Sher-e-Bangla National Cricket Stadium)-এ সকাল ১০টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর সাদা পোশাকে মাঠে ফিরছে বাংলাদেশ দল।

গত নভেম্বরে শেষবার টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। তখন আইরিশদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা। এরপর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক শান্ত।

সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি প্রথম ইনিংস একটা দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে। এমনকি বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও। আমি চাই ভালো উইকেট হোক। কন্ডিশনের চাহিদা অনুযায়ী ভালো রান হবে। যদি আমরা ৪০০ বা ৪০০ প্লাস করতে পারি, তাহলে সেটা দলের জন্য খুব ভালো হবে।”

তবে সেই রান কত ওভারে আসবে, তা নিয়ে ভাবছেন না শান্ত। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেবল স্কোরবোর্ডে বড় সংগ্রহ দাঁড় করানো।

তিনি বলেন, “৮০ ওভারে যদি আমরা ৪০০ করে ফেলতে পারি, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আবার কেউ যদি ১২০ ওভার সময় নেয়, তাতেও সমস্যা নেই। আসল বিষয় হচ্ছে রান।”

দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট খেলতে নামা প্রসঙ্গে শান্ত স্বীকার করেছেন, বিষয়টি সহজ নয়। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি।

অধিনায়কের ভাষায়, “অবশ্যই এতদিন পরপর টেস্ট খেলাটা কঠিন। কিন্তু অন্তত একটি চারদিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি, এটা ইতিবাচক।”

বিশেষ করে যারা কেবল টেস্ট ক্রিকেটেই নিয়মিত, তাদের জন্য এই বিরতি আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন তিনি। মুমিনুল হক (Mominul Haque), তাইজুল ইসলাম (Taijul Islam), নাঈম হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়ের প্রসঙ্গ টেনে শান্ত বলেন, তারা সবাই পেশাদার এবং নিজেদের প্রস্তুতি ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।

এদিকে উইকেট নিয়েও বেশ আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার বিশ্বাস, মিরপুরের উইকেটে পেসার ও স্পিনার—দুই ধরনের বোলারই সমান সুযোগ পাবে।

শান্ত বলেন, “ভালো পেসার ও ভালো স্পিনার আমাদের দুদিকেই আছে। আমার মনে হয় প্রপার স্পোর্টিং উইকেট থাকলে দলের জন্য ভালো। তবে আগামী পাঁচদিন উইকেট কেমন আচরণ করবে, সেটা আবহাওয়ার ওপরও নির্ভর করবে। আমাদের সেই অনুযায়ী মানিয়ে নিতে হবে।”

যদিও সিরিজ শুরুর আগেই ‘হোয়াইটওয়াশ’ বা ফলাফল নিয়ে বড় কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রতিদিনের ক্রিকেট এবং ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনও হোয়াইটওয়াশ নিয়ে চিন্তা করি না। ১০ দিনের খেলা, পাঁচদিন করে। এই সময়ের মধ্যে কীভাবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, প্রতিযোগিতামূলক থাকতে পারি—সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ফল নিয়ে ভাবার চেয়ে প্রসেসটা বেশি জরুরি।”