পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশিদের জয়যাত্রা, টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহামে মেয়র হলেন দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আবারও শক্ত অবস্থান দেখালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টাওয়ার হ্যামলেটস (Tower Hamlets) কাউন্সিলে এসপায়ার পার্টির লুৎফুর রহমান এবং নিউহাম (Newham) কাউন্সিলে লেবার পার্টির ফরহাদ হোসেন নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম, রেডব্রিজসহ ১৩৬টি স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী অংশ নেন। শুক্রবার ফলাফল ঘোষণার পর বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

নিউহাম কাউন্সিলে ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন ফরহাদ হোসেন (Farhad Hussain)। যুক্তরাজ্যের মূলধারার কোনো বড় রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাহী মেয়র হিসেবে নতুন ইতিহাসে নাম লেখালেন তিনি।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিউহাম ইনডিপেনডেন্ট পার্টির কামরান মালিক পেয়েছেন ২০ হাজার ২৩৪ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন গ্রিন পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী আরিক চৌধুরী, যিনি পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯৯৯ ভোট। নিউহামে মোট আটজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অন্যদিকে লুৎফুর রহমান (Lutfur Rahman) টাওয়ার হ্যামলেটসে আবারও নিজের অবস্থান অটুট রেখেছেন। তিনি ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়ে মেয়র পদ ধরে রাখতে সক্ষম হন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট।

এই কাউন্সিলেও তৃতীয় স্থানে ছিলেন গ্রিন পার্টির প্রার্থী হিরা খান আদেওগান। টাওয়ার হ্যামলেটসে মোট ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন, যাদের মধ্যে আরও দুইজন ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।

তবে স্থানীয় সরকারের এই ফলাফল ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার (Keir Starmer)-এর নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির জন্য এবারের ফলাফল উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় দলটি তাদের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটিতে ধাক্কা খেয়েছে।

অন্যদিকে ডানপন্থী নেতা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে নাটকীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। শুক্রবার পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, দলটি ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ কাউন্সিল আসনে জয় পেয়েছে। বিপরীতে লেবার পার্টি আগের নির্বাচনে জয়ী হওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন হারিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রভাব শুধু জনসংখ্যাগত বাস্তবতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং স্থানীয় রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্যেও তা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এবারের নির্বাচন সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।