গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ভয়াবহ এক পারিবারিক হ’\ত্যাকাণ্ডে স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কে’\টে নি’\হত করে পালিয়ে গেছেন ট্রাকচালক মো. ফোরকান মিয়া (৪০)। শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে পুলিশ পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করে।
নি’\হতরা হলেন শারমিন খানম (Sharmin Khanam), তাদের তিন মেয়ে মিম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল। পরিবারটি গত চার মাস ধরে কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘরের ভেতরে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হ’\ত্যাকাণ্ড চালানো হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্ত্রী শারমিনকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে নির্যাতনের পর হ’\ত্যা করা হয়েছে। অন্য চারজনকে বিছানায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কে’\টে হ’\ত্যা করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের পাশে পাওয়া গেছে কিছু প্রিন্ট করা কাগজ, যেগুলো প্রাথমিকভাবে কোনো মামলার নথিপত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ঘর থেকে মাদক সেবনের আলামতও জব্দ করা হয়েছে।
নি’\হত শারমিনের স্বজন ইভা রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য শারমিনকে নির্যাতন করতেন ফোরকান। তার দাবি, মাদকাসক্ত অবস্থাতেই এই ভয়াবহ হ’\ত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
স্বজন মনির হোসেন (Monir Hossain) জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শ্যালক রসুলকে বাসায় ডেকে আনা হয়েছিল। পরে তাকেও নি’\র্মমভাবে হ’\ত্যা করা হয়। তিনি বলেন, “ডেকে এনে তাকেসহ পাঁচজনকে খু’\ন করেছে। এমন ঘটনা জীবনে কখনও দেখি নাই।”
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিকভাবেই দেখা গেছে। তবে রাতের কোনো একসময় এই রক্তাক্ত ঘটনা ঘটে। পরে ফোরকান এক আত্মীয়কে ফোন করে নিজেই খু’\নের বিষয়টি স্বীকার করেন। সেই ফোনকলের সূত্র ধরেই স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহগুলো দেখতে পান।
গাজীপুর জেলা পুলিশ (Gazipur District Police)-এর পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, “ঘাতক ফোরকান ফোন করে একজনকে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক সংস্থা কাজ করছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
বর্তমানে বাড়িটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের ফরেনসিক টিম আলামত সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই নি’\র্মম ঘটনার পর পুরো গাজীপুর (Gazipur) জেলায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


