যে শুভেন্দুকে একসময় ‘দুর্নীতিবাজ’ বলেছিলেন মোদি, তাকেই এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী করলো বিজেপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) শপথ নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে তার ঘু’\ষ নেওয়ার অভিযোগসংবলিত একটি পুরোনো ভিডিও। ভিডিওটি ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক, নৈতিকতা ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন।

ভিডিওটি প্রকাশ করেছিল নারদ নিউজ (Narada News)। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীসহ তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতাকে টাকার বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতে দেখা যায়। অভিযোগ ছিল, কয়েকটি ঘটনায় অন্তত পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘু’\ষ নেওয়া হয়েছিল।

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে এই ভিডিওকে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) নিজেও বিভিন্ন নির্বাচনি সভায় শুভেন্দুসহ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন।

তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে সময় লাগেনি। ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর অমিত শাহর উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর থেকেই সমালোচকদের দাবি, বিজেপির বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে সেই ভিডিও ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলা হয়।

নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর পুরোনো ভিডিওটি আবার ভাইরাল হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, যাকে একসময় দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, তাকেই এখন পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্বে বসিয়েছে বিজেপি।

নারদ কাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা গ্রে’\প্তার হলেও শুভেন্দু অধিকারীকে কখনও গ্রে’\প্তার করা হয়নি। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো তার বিরুদ্ধে আর কার্যকরভাবে এগোয়নি।

শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) দিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দ্রুতই তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন।

২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন তাকে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। জমি অধিগ্রহণবিরোধী সেই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেয় এবং শুভেন্দু হয়ে ওঠেন আন্দোলনের অন্যতম মুখ।

২০০৯ ও ২০১৪ সালে লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৬ সালে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় পরিবহন ও সেচ দপ্তরের দায়িত্ব পান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও বড় আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধান মুখ হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় পৌঁছান তিনি।

তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই পুরোনো দুর্নীতির অভিযোগ আবার সামনে চলে আসায় নতুন সরকারকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।