ইউক্রেন যুদ্ধ ‘শেষের পথে’, শান্তিচুক্তির পর জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তুত পুতিন

ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ‘শেষের পথে’ বলে মন্তব্য করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy)-র সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে বসতেও তিনি আগ্রহী।

শনিবার মস্কোর রেড স্কয়ার (Red Square)-এ বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। এর আগে কুচকাওয়াজে দেওয়া ভাষণে তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার বিজয়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। যদিও এবারের বিজয় দিবসের আয়োজন আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেকটাই সীমিত ছিল।

পুতিনের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের যুদ্ধবিরতি এবং এক হাজার বন্দিবিনিময়ে সম্মত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত নিরসনে এটি নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হতে পারে।

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের প্রশংসা করে তাদের অভিযানকে ‘ন্যায়সংগত কাজ’ বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, রাশিয়া পুরো ন্যাটো জোটের সমর্থনপুষ্ট একটি ‘আগ্রাসী শক্তির’ বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

তিনি বলেন, ‘বিজয় সব সময় আমাদের ছিল এবং আমাদেরই থাকবে।’

পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন পশ্চিমা ‘গ্লোবালিস্ট এলিট’দের এই যুদ্ধের জন্য দায়ী করেন। তার অভিযোগ, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ন্যাটো পূর্ব দিকে সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু পরে ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বলয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, ‘আমি মনে করি বিষয়টি শেষের পথে।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর অনুরোধে রাশিয়া ও ইউক্রেন শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিনের যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিবিনিময়ে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে জানান, এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং উভয় পক্ষ এক হাজার করে বন্দি বিনিময় করবে।

ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ হয়তো দীর্ঘ ও প্রাণঘাতী যুদ্ধের অবসানের সূচনা হতে পারে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর একটি পাল্টা বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি বিদ্রুপাত্মক ভঙ্গিতে রাশিয়াকে বিজয় দিবস উদযাপনের অনুমতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং রেড স্কয়ারে ইউক্রেনীয় হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

তবে ক্রেমলিন (Kremlin) জেলেনস্কির বক্তব্যকে ‘বাজে রসিকতা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই তিনি বৈঠকে বসতে রাজি। তার ভাষায়, এটি কোনো আলোচনামূলক বৈঠক নয়, বরং একটি চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হতে হবে।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে উভয় পক্ষের কয়েক লাখ মানুষ নি’\হত হয়েছে এবং ইউক্রেনের বিশাল অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও যুদ্ধের প্রভাবে চাপের মুখে পড়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পুতিন জানান, এ ধরনের আলোচনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডারকে বেশি পছন্দ করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা (Al Jazeera)