মাত্র চার মাসেই ফের ভাঙল আবু ত্বহা আদনান ও সাবিকুন নাহার সারার দ্বিতীয় সংসার

আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান (Abu Taha Muhammad Adnan) এবং সাবিকুন নাহার সারা (Sabikun Nahar Sara)-এর দাম্পত্য জীবন আবারও ভেঙে গেছে। প্রথমবার বিচ্ছেদের পর পারিবারিক উদ্যোগে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও দ্বিতীয় দফায় সংসার শুরুর মাত্র চার মাসের মাথায় সেই সম্পর্কেরও ইতি ঘটেছে।

রোববার (১০ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাবিকুন নাহার সারার বড় বোন মোছাম্মাত হাজেরা। তিনি জানান, পারিবারিক অশান্তি ও দীর্ঘদিনের মতবিরোধের কারণে ধীরে ধীরে দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি ঘটে, যার পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তারা।

হাজেরা বলেন, দুই পরিবারই প্রথমদিকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা স্থায়ী হয়নি। তার ভাষায়, পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার পর শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার রাতে, অর্থাৎ ঈদের আগের রাতে তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।

বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে সাবিকুন নাহার সারার পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন মোছাম্মাত হাজেরা। তার দাবি অনুযায়ী, ত্বহা আদনান চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কিছু মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ছবি নেওয়া ও ব্যক্তিগত সময় কাটানোর বিষয়ও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দ্বিতীয়বার বিয়ের পর আদনান তার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন এবং পারিবারিক সম্পর্ক বজায় না রাখার বিষয়ে চাপ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিলাসবহুল জীবনযাপন করে ঋণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং তা শোধের জন্য অন্যদের উৎসাহিত করার বিষয়েও অভিযোগ তোলেন তিনি।

অন্য একটি অভিযোগে বলা হয়, পাবনায় অনার্সপড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও বিতর্ক তৈরি হয়, যা পারিবারিক অশান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে বলে দাবি করেন তিনি।

মোছাম্মাত হাজেরা বলেন, এসব বিষয় নিয়ে আপত্তি জানালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের সম্মতিতেই তালাক সম্পন্ন হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আবু ত্বহা আদনান তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষের সম্মতিতে যৌথ ও চূড়ান্ত তালাক হয়েছে।’

উঠে আসা অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সামনাসামনি আলোচনা করা হবে। তার ভাষায়, এসব অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আবু ত্বহা আদনান ও সাবিকুন নাহার সারা। প্রথম বিচ্ছেদের পর দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় তারা আবারও নতুন করে সংসার শুরু করেছিলেন। তবে সেই পুনর্মিলনও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।