ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন সমীকরণ: আইসিসিতে একে অপরকে সমর্থনে একমত বাংলাদেশ-পাকিস্তান

ক্রিকেট প্রশাসনের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) (Bangladesh Cricket Board) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) (Pakistan Cricket Board)-এর মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে জানা গেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পারস্পরিক ইতিবাচক অবস্থানের পর এবার আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাঠামোতেও একে অপরকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে দুই বোর্ড একমত হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি (Mohsin Naqvi) দুই দিনের ঢাকা সফর শেষে ইতিবাচক বার্তা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ক্রিকেট প্রধান তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal)-ও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (WTC) দুই-স্তরের কাঠামো চালুর যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের পর নতুন আর্থিক চক্রে আইসিসি আয় বণ্টন এবং ভবিষ্যৎ ডব্লিউটিসি সংস্করণে আরও ভারসাম্য আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।

আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান কাঠামোর অসমতা নিয়েও উদ্বেগ। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ডব্লিউটিসিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড তুলনামূলকভাবে বেশি ম্যাচ ও সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান (Pakistan), বাংলাদেশ (Bangladesh), শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies)-এর মতো দলগুলো কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এর বিভিন্ন ইস্যুতে একে অপরকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে। লক্ষ্য হলো, বৈশ্বিক ক্রিকেট প্রশাসনে একটি শক্তিশালী জোট গড়ে তোলা।

সূত্র আরও জানায়, মহসিন নাকভি এবং তামিম ইকবাল উভয়েই ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে আইসিসি পর্যায়ে যৌথ অবস্থান তৈরির চেষ্টা করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।