এক যুগ পর জামায়াতের নিবন্ধন ফিরিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, ভোটের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-র নিবন্ধন ফেরত সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এ রায়ের মধ্য দিয়ে এক যুগ আগে দেওয়া হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায় বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণতা পেল।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই রায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এর আপিল বিভাগ।

জামায়াতের করা আপিল শুনানি শেষে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ (Syed Refaat Ahmed)-এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. রেজাউল হক।

এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিন পর আবারও ভোটের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় জামায়াতে ইসলামী। দলীয় প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথও এর মাধ্যমে উন্মুক্ত হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

জামায়াতকে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)-এর দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে একটি রিট দায়ের করা হয়েছিল। ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিও দেওয়া হয়। পরে ওই বছরই বিষয়টি আপিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালেই নিয়মিত লিভ টু আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ১ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ যুগান্তকারী এ রায় প্রদান করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে টেকসই ছিল না। এর ফলে দলটির নিবন্ধনের বৈধতা পুনর্বহাল হয় এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না।

এই রায় দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করবে বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পর দলীয় প্রতীক নিয়ে জামায়াতের নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।