হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মাঝে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য, মোতায়েন হচ্ছে এইচএমএস ড্রাগন

হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) (Strait of Hormuz) ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাজ্য (United Kingdom)। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন (HMS Dragon) (HMS Dragon) ওই অঞ্চলে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে ভূমধ্যসাগরের সাইপ্রাসের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রার অপেক্ষায় রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার (৯ মে) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স (France) যৌথভাবে যে বহুজাতিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে, তার অংশ হিসেবেই এইচএমএস ড্রাগনকে মোতায়েন করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা নিশ্চিত করছি যে এইচএমএস ড্রাগন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মোতায়েন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বহুজাতিক অভিযান শুরু হলে তার প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েনের মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের মুক্ত চলাচলের অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্য (United Kingdom) পুরোপুরি প্রস্তুত।”

উল্লেখ্য, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত। এই পথ দিয়েই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন হয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চলমান পরিস্থিতিতে ইরান (Iran) ও যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান এই অঞ্চলের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। এর সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে ১২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র (United States) এই প্রণালি এবং ইরানি বন্দরে অবরোধ আরোপ করে। ফলে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথ এখনও কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

এইচএমএস ড্রাগন একটি টাইপ-৪৫ ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ, যা আধুনিক রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তিতে সজ্জিত। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী এই জাহাজকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি