পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা (Kuakata) সংলগ্ন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলি ইউনিয়নে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি আরসিসি স্লাব সেতু এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় চার বছর ধরে সেটি কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এলজিইডি (Local Government Engineering Department) সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী খালের ওপর ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাতসহ ৭ দশমিক ৩২ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের ওপর সেতুর ঢালাই কাজ সম্পন্ন হলেও পূর্ব পাশে প্রায় ২০০ মিটার এবং পশ্চিম পাশে প্রায় ৫০ মিটার সংযোগ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই অসমাপ্ত পড়ে আছে। ফলে স্থানীয়দের চলাচলের জন্য সেতুটি কোনো কাজে আসছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ও কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে দুই পাশ পানিতে তলিয়ে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও বয়স্ক মানুষজন।
জানা গেছে, সেতুর পশ্চিম পাশে একটি আশ্রয়ণ কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে অন্তত ৬০টি পরিবার বসবাস করছে। এছাড়া খাজুরা আশ্রয়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাজুরা, বাহামকান্দা, ফাঁসিপাড়া ও কলইপাড়াসহ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ, মহাসড়ক, কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড এবং উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়াতের জন্য এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল।
এলাকার মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরাও পূর্বপাড়ের আলহাজ্ব আবু হানিফ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে এ পথ ব্যবহার করে থাকে।
ফাঁসিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা বেগম বলেন, তার নাতনি সোনিয়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। পানি কম থাকলে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাওয়া গেলেও বর্ষায় দুই পাশ ডুবে যায়। তখন স্কুলে যাতায়াত চরম কষ্টকর হয়ে পড়ে।
খাজুরা আশ্রয়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া জানায়, পানি ভেঙে ও বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে তার খুব ভয় লাগে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন হাওলাদার বলেন, সংযোগ সড়কের জন্য ঘরের সামনে মাটি কেটে রাখা হয়েছে। বৃষ্টিতে সেখানে পানি জমে থাকায় ছোট সন্তান নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।
আশ্রয়ণ সমবায় সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তিন বছর আগে এ এলাকায় পানিতে ডুবে স্কুলগামী দুই শিশুর মৃ’\ত্যু হয়েছিল। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং আশপাশের গ্রামের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকার এই সেতু এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলজিইডি কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী চেম্বার্স অব কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ঠিকাদার গিয়াস উদ্দিন কাজটির কার্যাদেশ পান। পরে তিনি কাজটি অন্যের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ৯ মে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে বর্তমানে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়েছে এবং মে মাসের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

