কিউবায় যে কোনো সময় হা’\মলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio)-র সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস (Axios)।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবার সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছেন। তার দেওয়া হা’\মলার হুমকি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এক্সিওসের ভাষ্যে, ট্রাম্পের এই অবস্থান বাস্তব পদক্ষেপেও রূপ নিতে পারে।
১৯৬২ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, বর্তমান রাশিয়া (Russia), কিউবায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েন করেছিল। বিষয়টি জানতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ওয়াশিংটন কিউবার ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। নিজেদের ভূখণ্ডের এত কাছে কিউবায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েনকে যুক্তরাষ্ট্র তখন সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখেছিল।
সেই ঐতিহাসিক পটভূমির কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই উদ্বেগের চোখে দেখছেন। ট্রাম্প যদি কিউবায় হা’\মলা চালানোর পথে এগোন, তাহলে ১৯৬২ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব।
গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) জানায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে কিউবার ওপর নজরদারি বিমান চালানো বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন প্রশাসন।
নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তীব্র ভাষায় বলেন, গণ’\হ’\ত্যার উদ্দেশ্যে এটি সাধারণ মানুষের ওপর সামগ্রিক শাস্তি। তার এই মন্তব্য কিউবার ভেতরে তৈরি হওয়া চাপ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে গত কয়েক মাসে কিউবার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মিলিয়ে দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলা (Venezuela)-র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা অপ’\হ’\রণের পর কিউবার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, কিউবা নিজেদের চাহিদার বড় অংশের তেল ভেনেজুয়েলা থেকেই পেত।
তবে এক্সিওসের প্রতিবেদনে আরেকটি দিকও তুলে ধরা হয়েছে। ব্রাজিল (Brazil)-এর প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, কিউবায় হা’\মলার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
কিন্তু সেই আশ্বাসের পরও উদ্বেগ থামছে না। গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা একটি রণতরী কিউবার কাছে মোতায়েন করা হতে পারে। ঘনিষ্ঠদের কাছে তিনি আরও বলেছেন, রণতরী মোতায়েন করে সেটি কিউবার কাছে নিয়ে গেলে দেশটি আত্মসমর্পণ করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেও কিউবায় হা’\মলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র যখন মনোযোগ ইরানের দিকে সরিয়ে নেয়, তখন কিউবা ইস্যুতে সম্ভাব্য হা’\মলা আর হয়নি। এবার আবার সেই পুরোনো উত্তেজনাই নতুন করে সামনে এসেছে—আর ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষা ও সামরিক ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলছে।
সূত্র: এক্সিওস


