খুলনায় ধান সংগ্রহ কমিটিতে আ’লীগ নেতার নাম ঘিরে তোলপাড়, ফাইল ফেরত দিলেন ডিসি

চলতি বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটিতে কৃষক প্রতিনিধি হিসেবে এক আওয়ামী লীগ নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় খুলনার প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। খুলনা (Khulna) জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দফতর থেকে পাঠানো প্রস্তাবিত কমিটির তালিকায় ওই নেতার নাম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক। পরে পুরো ফাইলই ফেরত পাঠানো হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা দরে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়। এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই জেলা পর্যায়ে সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি গঠনের কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর পুরোনো কমিটির কাঠামো অনুসরণ করে একটি প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। সেখানে কৃষক প্রতিনিধি হিসেবে রাখা হয় মল্লিক আবিদ হোসেন কবির (Mallik Abid Hossain Kabir)-এর নাম, যিনি খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ (Khulna Metropolitan Awami League)-এর সহ-সভাপতি।

বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আসার পরই আপত্তি ওঠে। রাজনৈতিক পরিচয় থাকা একজন ব্যক্তিকে কৃষক প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা।

হুরে জান্নাত (Hure Jannat) সাংবাদিকদের বলেন, তার সঙ্গে আলোচনা না করেই আগের কমিটির আদলে তালিকা পাঠানো হয়েছিল। কৃষক প্রতিনিধি হিসেবে যাঁর নাম দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আপত্তি থাকায় ফাইলটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকিউরমেন্ট কমিটি গঠন না হওয়ায় অসন্তোষও প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তানভীর হোসেন (Md. Tanvir Hossain) বিষয়টিকে গুরুতর নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “২০১০ সাল থেকে এভাবেই কমিটি হয়ে আসছে। এবার কমিটি গঠনের সময় ডিসি সম্মেলন চলছিল, তাই নির্ধারিত সময়ে সভা করা সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “নীতিমালায় উল্লেখ আছে, প্রতিনিধি নিয়োগ দেবেন জেলা প্রশাসক। আমি কেবল প্রস্তাব পাঠিয়েছি।” আওয়ামী লীগ নেতার নাম কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তিনি কৃষক প্রতিনিধি হিসেবেই রয়েছেন।”

তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। সূত্রটির ভাষ্য, সময় পেরিয়ে যাওয়ার অজুহাতে তড়িঘড়ি করে কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে না এলে হয়তো ওই কমিটিই চূড়ান্ত হয়ে যেত।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং কমিটি গঠনে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কৃষক প্রতিনিধিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করাই হওয়া উচিত।