দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে বড় কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান এসএফ গ্রুপ (SF Group)। সিঙ্গাপুরের বিশ্বখ্যাত চাঙ্গি বিমানবন্দর (Changi Airport)-কে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ‘বিদেশি কার্গো হাব’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল পণ্য পরিবহন নয়, বরং পুরো এশিয়াজুড়ে বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা এবং ভ্রমণ খাতেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম সেরা ও ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত। বৈশ্বিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এর ভৌগোলিক অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসএফ গ্রুপ এবং চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপ (Changi Airport Group – CAG)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ফলে এখন থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের প্রধান ‘গেটওয়ে’ বা প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে সিঙ্গাপুর।
বাংলাদেশের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য এই উদ্যোগ একটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার ফ্লাইটের সময় মাত্র চার ঘণ্টা হওয়ায় জরুরি ইলেকট্রনিক্স পার্টস, পচনশীল পণ্য কিংবা হাই-টেক পণ্য সিঙ্গাপুর হাব হয়ে দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
রপ্তানির ক্ষেত্রেও খুলতে পারে নতুন পথ। বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা সিঙ্গাপুরকে ‘ট্রানশিপমেন্ট পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বাজারে আরও সহজে এবং তুলনামূলক কম খরচে পণ্য পাঠাতে পারবেন। এতে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশের জন্য বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
খরচ কমার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসএফ গ্রুপের ৯০টির বেশি কার্গো বিমানসমৃদ্ধ নিজস্ব বিশাল বিমান বহর রয়েছে। এর সঙ্গে চাঙ্গির মতো দক্ষ বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালিত হলে পণ্য হ্যান্ডলিং খরচ ও সময়—দুটিই কমে আসার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও এটি মূলত একটি বাণিজ্যিক হাব, এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে ভ্রমণ খাতেও। চাঙ্গি বিমানবন্দরের মতো আন্তর্জাতিক হাবের সক্ষমতা বাড়লে এবং বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে ওই রুটে যাত্রীবাহী বিমানের সংখ্যা ও সুযোগ-সুবিধাও সাধারণত বাড়ে। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক যোগাযোগ শক্তিশালী হলে পর্যটকদের মালামাল পরিবহন, ট্রানজিট সুবিধা এবং ভ্রমণ অভিজ্ঞতাও আরও উন্নত হতে পারে।
এসএফ গ্রুপের চেয়ারম্যান ডিক ওয়াং বলেন, ‘চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের সঙ্গে এই অংশীদারি আমাদের তিনটি প্রধান অঞ্চলে সম্পদ ও সক্ষমতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে। আমরা বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেরা সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
অন্যদিকে চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ইয়াম কুম ওয়েং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘চাঙ্গি বিমানবন্দরে এসএফ গ্রুপের বিমান সংযোগ এবং লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করতে মুখিয়ে আছি।’
বিশ্লেষকদের মতে, ডিএইচএল বা ফেডেক্সের মতো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর জন্য এই অঞ্চলে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে এসএফ গ্রুপ। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি তাদের আয়ের ৩০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্জনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, সিঙ্গাপুরের এই নতুন হাবটি হতে পারে তার অন্যতম মূল স্তম্ভ।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরে এই লজিস্টিক হাব স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্যের মূলধারার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
সূত্র: বিজনেস টাইমস
এদিকে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনিবন্ধিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সাধারণ মানুষকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (Ministry of Civil Aviation and Tourism)।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে মা’\নবপা’\চার, প্রতা’\রণা এবং ভুয়া ট্যুর প্যাকেজ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় যাত্রীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
ড্রিম হোম ট্রাভেলস তদন্ত নিয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, “ড্রিম হোম ট্রাভেলস” নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে মা’\নবপা’\চারের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে যাচাই করে দেখা যায়, ওই এজেন্সির লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২১ সালেই শেষ হয়ে গেছে। এরপরও তারা অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং যুক্তরাজ্য ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও দেয় বলে দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে গত ৭ মে উল্লেখ করা হয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দেশে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি এখনো লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং ভুয়া অফার দিয়ে গ্রাহকদের প্রতা’\রণা করছে। এ ধরনের কার্যকলাপকে বেআইনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভ্রমণকারীদের নিরাপদ রাখতে মন্ত্রণালয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু নিবন্ধিত ও বৈধ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বা ট্যুর প্যাকেজ কিনতে হবে। এজেন্সির লাইসেন্স আছে কি না, তা আগে যাচাই করতে হবে। ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে এই যাচাই করা যাবে। অনিবন্ধিত এজেন্সির সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা অপ’\রাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তার মূল লক্ষ্য হলো যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করা, মা’\নবপা’\চার রোধ করা এবং ট্রাভেল সেক্টরে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। সরকার জানায়, বিদেশ ভ্রমণের আগে সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলেই বড় ধরনের প্রতা’\রণা থেকে বাঁচা সম্ভব। সে কারণে যেকোনো ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে লেনদেন করার আগে অবশ্যই তার বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে লম্বা ছুটি পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। দেশের এ বছরের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২৬ মে মঙ্গলবার থেকে ৩১ মে রবিবার পর্যন্ত টানা ছয় দিন ঈদের ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ২৬ ও ৩১ মে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে বলে জানা গেছে।
এর আগে ২২ ও ২৩ মে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। শনিবার অফিস খোলা রেখে সাপ্তাহিক ছুটিটি ঈদুল আজহার ছুটির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এতে ছুটি আরও এক দিন বাড়বে। এর আগে ঈদুল ফিতরের ছুটির সঙ্গে এক দিন ছুটি বাড়িয়েছিল সরকার।
সরকারি চাকরিজীবীদের কেউ ঈদের ছুটি শুরুর আগে দুদিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারলে ছুটি বেড়ে দাঁড়াবে ১০ দিনে। এই লম্বা ছুটি কাটাতে হলে ঈদের ছুটি শুরুর আগে, অর্থাৎ ২৪ ও ২৫ মে রবি ও সোমবার ছুটি নিতে হবে। এর আগের দুদিন, ২২ ও ২৩ মে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে দুদিন ছুটি নিতে পারলে ২২ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ১০ দিন ছুটি কাটাতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
এদিকে আগাম ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৩৭টি দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০২৬ সালের হালনাগাদ বৈশ্বিক পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ের তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে দুই ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান এখন ৯৩তম। গত বছরের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৫তম।
আগাম ভিসা ছাড়া বাংলাদেশিদের ভ্রমণের তালিকায় আছে—বাহামা, বার্বাডোজ, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দ আইল্যান্ডস, কোমোরো আইল্যান্ডস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার ও মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্তসেররাত, মোজাম্বিক, নেপাল, নুউয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন, গাম্বিয়া, তিমুর, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, টুভ্যালু এবং ভানুয়াতু।
এর মধ্যে কিছু দেশ ও অঞ্চলে অন-অ্যারাইভাল বা বিমানবন্দরে নামার পর ভিসার সুবিধা রয়েছে, আবার কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে নিতে হবে ই-ভিসা।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০২৬ সালের হালনাগাদ বৈশ্বিক পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ের নতুন তালিকায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর (Singapore)। যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। সূচক অনুযায়ী তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সুইডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এ ছাড়া বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন এবং সুইজারল্যান্ড রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা ও পর্তুগাল এবং ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া।
অন্যদিকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest) আরোহণের মৌসুম শুরুর মুখে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অভিযাত্রীরা। নেপালের বেস ক্যাম্প থেকে উপরের দিকে যাওয়ার রুটে বিশাল এক হিমবাহের খণ্ড, অর্থাৎ সেরাক, পথ আটকে দিয়েছে। এতে এ বছরের আরোহণ সূচি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রায় ১০০ ফুট বা ৩০ মিটার উঁচু এই বরফখণ্ডটি ক্যাম্প–১-এর নিচে অবস্থান করছে। অভিযাত্রীদের জন্য এভারেস্টের নিচের অংশে দড়ি ও মই স্থাপন করা ‘আইসফল ডাক্তার’ নামে পরিচিত শেরপা দল জানিয়েছে, আপাতত এর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো নিরাপদ উপায় নেই। তাদের মতে, একমাত্র উপায় হলো বরফখণ্ডটি স্বাভাবিকভাবে গলে বা ভেঙে পড়ার জন্য অপেক্ষা করা।
সাধারণত এপ্রিলের এই সময়ে ক্যাম্প–৩ পর্যন্ত রুট প্রস্তুত হয়ে যায়। কিন্তু এবার এখনো ক্যাম্প–১-এর নিচেই আটকে আছে কাজ। এতে পুরো মৌসুমের প্রস্তুতি অন্তত কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে পড়েছে।
বেস ক্যাম্প থেকে বিবিসিকে নেপালের অভিজ্ঞ পর্বতারোহী পূর্ণিমা শ্রেষ্ঠা বলেন, “আমরা সাধারণত ক্যাম্প–১, ২ ও ৩-এর মধ্যে ওঠানামা করে শরীর মানিয়ে নিই। কিন্তু রুট খুলতে দেরি হওয়ায় এবার শীর্ষে ওঠার সময় ‘ট্রাফিক জ্যাম’ হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।”
এভারেস্টের বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প–২ পর্যন্ত দড়ি স্থাপনের দায়িত্বে থাকা সমন্বয়ক ছেরিং তেনজিং শেরপা জানান, ‘কৃত্রিমভাবে বরফ গলানোর কোনো কার্যকর উপায় এখনো পাওয়া যায়নি। তাই আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।’
অভিজ্ঞ আইসফল ডাক্তার আং সার্কি শেরপার ভাষ্য, বরফখণ্ডটির নিচের অংশ ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে গেছে এবং দ্রুত গলে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর পাশ দিয়ে বিকল্প পথ তৈরি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
নেপালের পর্যটন বিভাগ এখন বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দড়ি স্থাপনকারী দলকে সরাসরি ক্যাম্প–২-এর কাছে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে অন্তত উপরের অংশের রুট প্রস্তুত করা যায়।
এভারেস্ট আরোহণের অনুকূল সময় সাধারণত মে মাসের শেষ পর্যন্ত থাকে। কিন্তু এই বিলম্বের কারণে এবারের মৌসুম ছোট হয়ে যেতে পারে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক আরোহীকে শীর্ষে ওঠার চেষ্টা করতে হতে পারে, যা আবারও ‘জটলা’র ঝুঁকি বাড়াবে।
ইতিমধ্যে ৩৬৭ জন আরোহী এ বছরের জন্য অনুমতি নিয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই চীনা নাগরিক। যদিও চীনের দিক থেকে বিদেশিদের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি, তবুও অধিকাংশ আরোহী নেপালের দিক থেকেই এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহীদের দীর্ঘ লাইনের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নেপাল সরকার অনুমতি ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং ফি বাড়িয়েছে। এ বছর বিদেশিদের জন্য আরোহন ফি বাড়িয়ে ১৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
