২০২৬ বিশ্বকাপ দেখা নিয়েই শঙ্কা, সম্প্রচার স্বত্ব না কিনলে বঞ্চিত হতে পারেন বাংলাদেশের দর্শকরা

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনার গল্প এখন আর শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বকাপ এলেই পতাকায় ছেয়ে যায় ছাদ, গায়ে ওঠে প্রিয় দলের জার্সি, রাত জেগে খেলা দেখা যেন পরিণত হয় উৎসবে। কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) সামনে রেখে এবার বড় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দেশের কোটি কোটি ফুটবলভক্ত।

আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র (United States), কানাডা ও মেক্সিকোতে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। এবারের আসরটি আরও বিশেষ, কারণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে বিশ্বকাপে। তবে এতসব উত্তেজনার মাঝেও বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—তারা আদৌ বিশ্বকাপের খেলা দেখতে পারবেন তো?

জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (BTV) এখনও ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে পারেনি। শুধু বিটিভিই নয়, দেশের কোনো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মও এখন পর্যন্ত সম্প্রচার অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি।

ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার অন্য দেশে সরাসরি দেখানো যায় না। ফলে স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান সম্প্রচার স্বত্ব না কিনলে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপ দেখা কার্যত কঠিন হয়ে পড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড (Springbok Pte Limited)। বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের কাছ থেকেই সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে হবে।

প্রতি বিশ্বকাপেই সাধারণ দর্শকদের জন্য খেলা সম্প্রচার করে আসছে বিটিভি। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য এতটাই বেশি যে সেটি এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিটিভির একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বের জন্য স্প্রিংবক পিটিই প্রায় ১৫১ কোটি টাকা দাবি করেছে। কর ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় প্রায় ২০০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মোট অর্থের অর্ধেক ১০ মে’র মধ্যে এবং বাকি অর্থ ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই চুক্তির আওতায় উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানসহ মোট ১০৪টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার এবং হাইলাইটস দেখানোর সুযোগ থাকবে।

এদিকে এত বড় ব্যয় বহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিটিভিকে সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। উদ্দেশ্য ছিল, বিনামূল্যে বা বিশেষ সুবিধায় সম্প্রচারের কোনো সুযোগ পাওয়া যায় কি না তা যাচাই করা।

জানা গেছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিটিভি ফিফাকে অন্তত দুটি ই-মেইল পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এতে করে বিটিভিতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত না এলে বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এবারের বিশ্বকাপ সরাসরি দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। আর সেটি হলে দেশের ফুটবল উন্মাদনার ইতিহাসে বড় ধরনের হতাশার জন্ম দিতে পারে।