“সব প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ হলে জনগণই সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে” — এনসিপির সেমিনারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সরকারের বিভিন্ন নীতি, সেবা ও প্রতিশ্রুতির কঠোর সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (Nasiruddin Patwari) বলেছেন, “সরকারের দেওয়া সব কার্ড কিংবা প্রতিশ্রুতি যখন ব্যর্থ হয়ে যাবে, তখন জনগণের পক্ষ থেকেই সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে।”

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার: সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেমিনারের আয়োজন করে দলটির কৃষি সেল।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের সরকারি কার্ড ও সহায়তা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কেবল কার্ড হাতে ধরিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রকৃত প্রশ্ন হচ্ছে, প্রান্তিক কৃষক ও সাধারণ মানুষ আদৌ সেই সেবার সুফল পাচ্ছেন কি না। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা যাচাই না করে শুধু প্রচারণা চালালে মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ করে বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এর নতুন সরকার বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের যেকোনো উসকানিমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনোভাবেই সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সফল হতে দেওয়া যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে দেশের কৃষি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম (Dr. Jahangir Alam)। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে দেশের ৫ থেকে ৭ শতাংশ বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব খাদ্য নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ড. জাহাঙ্গীর আলম সতর্ক করে বলেন, খাদ্য উৎপাদন কমে গেলে বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। কৃষি সংকট মোকাবিলায় এখনই দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও কৃষি খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি কৃষি খাত হওয়া সত্ত্বেও এটি বরাবরই অবহেলিত। তার মতে, মোট বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষি খাতে বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র ‘প্রাইস কমিশন’ গঠনের দাবিও জানান তিনি।

সেমিনারে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহফুজ সাদি (Mahfuz Sadi)-সহ দলটির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।