জা’\হা’\ঙ্গী’\রনগরে নারী শিক্ষার্থীকে টেনে নিয়ে ধ’\র্ষ’\ণচে’\ষ্টা, চার ঘণ্টা আগেই ক্যাম্পাসে ঢুকেছিল অভিযুক্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (Jahangirnagar University) ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীকে টেনে নিয়ে ধ’\র্ষ’\ণচে’\ষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা আগে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করেন এবং ঘটনার আগেও আরেক নারী শিক্ষার্থীর পিছু নিয়েছিলেন।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাটিকে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ঘটনার পর বিভিন্ন সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান (Dr. Mohammad Kamrul Ahsan)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় নেওয়া ১৪টি সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ মে সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে অভিযুক্ত যুবক বিশ মাইল গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে প্রান্তিক গেট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। সেখান থেকে ৭টা ৩১ মিনিটে পদ্মপুকুর এলাকার পাশের অন্ধকার স্থানে যান এবং পরে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত পাঁচবার ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাকে।

সিসিটিভি ফুটেজে রাত ১০টা ২০ মিনিটে ছাত্রী হল সংলগ্ন সড়কেও অভিযুক্তকে দেখা যায়। পরে তিনি ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ঘুরে শহীদ সালাম বরকত হলের দিকে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যান বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, একই স্থানে ধ’\র্ষ’\ণচে’\ষ্টার ঘটনার ঠিক আগে আরেক নারী শিক্ষার্থীর পিছু নিয়েছিলেন ওই যুবক। তবে ঘটনার পর তিনি কোন পথে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন, সেটি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদারে ১৪ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত সাড়া দিতে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, জরুরি অভিযোগ গ্রহণে হটলাইন চালু, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ।

এছাড়া ক্যাম্পাসে কর্মরত নির্মাণশ্রমিক, দোকান কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ দোকান অপসারণ এবং সংশ্লিষ্টদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন, নতুন প্রহরী নিয়োগ এবং আরও ১০০ জন আনসার সদস্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (University Grants Commission)-এ আবেদন পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ মেরামত এবং অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রক্টর।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রে’\ফতা’\র করতে সরকারের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একযোগে কাজ করছে। খুব দ্রুতই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।